ঠিক হয়ে গিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা! নাম প্রকাশে ভয় ধর্মীয় পরিষদের

তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে (Supreme Leader)। ইরানের শক্তিশালী ধর্মীয় পরিষদ নাকি ইতিমধ্যেই দেশের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের বিষয়ে প্রায় ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
iran-next-supreme-leader-decision-assembly-of-experts

তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে (Supreme Leader)। ইরানের শক্তিশালী ধর্মীয় পরিষদ নাকি ইতিমধ্যেই দেশের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের বিষয়ে প্রায় ঐকমত্যে পৌঁছেছে। তবে কিছু প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা যায়নি বলে জানা যাচ্ছে।

এই তথ্য সামনে এসেছে পরিষদের সদস্য আয়াতোল্লাহ মোহাম্মদ মেহদি মিরবাকেরির বক্তব্য থেকে। রবিবার তিনি জানান, দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন নিয়ে পরিষদের বেশিরভাগ সদস্যের মতামত এক জায়গায় এসেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার আগে কিছু বাধা কাটিয়ে ওঠা প্রয়োজন।

   

ইরানের শাসনব্যবস্থায় এই পরিষদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৮৮ সদস্যের এই ধর্মীয় পরিষদই দেশের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে থাকে। সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর থেকেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। শনিবার পরিষদের এক প্রবীণ ধর্মীয় নেতা জানিয়েছিলেন, খুব দ্রুতই সদস্যদের বৈঠক ডাকা হতে পারে। তাঁর মতে, এক দিনের মধ্যেই পরবর্তী নেতা বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে সেই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পথ এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

আরও দেখুনঃ ওমান উপকূলে ঢুকল চীনা গোয়েন্দা জাহাজ! কি তবে হারতে চলেছে আমেরিকা?

মূলত প্রক্রিয়া নিয়ে পরিষদের ভেতরেই কিছু মতভেদ তৈরি হয়েছে। কিছু সদস্য মনে করছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হলে অবশ্যই সশরীরে বৈঠক করা জরুরি। অন্যদিকে অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় বৈঠক করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই বিশেষ পরিস্থিতিতে দূর থেকেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা যেতে পারে।

এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন পরিষদের আরেক সদস্য আয়াতোল্লাহ মোহসেন হেইদারি আল-কাসির। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তাই পুরো পরিষদের সশরীরে বৈঠক করা এখন সম্ভব নয়। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতিতে যে কোনও বড় সমাবেশ শত্রুদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং তা ইরানের বিপ্লবের ক্ষতি করবে।

ইরানের রাজনৈতিক অস্থিরতার অন্যতম কারণ হচ্ছে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে একাধিক বিমান হামলায় ইরানের বহু সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সেই হামলায় সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই ও নিহত হন। ইরানের সংবাদমাধ্যম আরও জানিয়েছে, বিমান হামলায় কুম শহরে ধর্মীয় পরিষদের সঙ্গে যুক্ত একটি ভবনের অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে।

এদিকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন খামেনেইর ছেলে মোজতাবা খামেনেই। ৫৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতা দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি সরাসরি কোনও বড় সরকারি পদে না থাকলেও তাঁর বাবার দফতরে কাজ করার সময় থেকেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মোজতাবা খামেনেইর সঙ্গে ইরানের শক্তিশালী আইআরজিসি-র ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সেই কারণেই তাঁকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তাঁর নাম ঘিরে বিতর্কও কম নয়। বিশেষ করে ২০২২ সালে এক তরুণীর মৃত্যুকে ঘিরে দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, সেই সময় অনেক প্রতিবাদকারী সরাসরি তাঁর সমালোচনা করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কঠোর দমননীতির পেছনে তাঁরও প্রভাব রয়েছে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.