হরমুজে বিশ্বাসঘাতক পাকিস্তানি ট্যাঙ্কার উড়িয়ে চরম শিক্ষা ইরানের

তেহরান: হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় একটি পাকিস্তানি পতাকাবাহী তেলের ট্যাঙ্কার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে (Iran missile attack)। মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে…

iran-missile-attack-pakistani-tanker-strait-of-hormuz-tension

তেহরান: হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় একটি পাকিস্তানি পতাকাবাহী তেলের ট্যাঙ্কার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে (Iran missile attack)। মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় বেড়েছে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা। এই আক্রমণকে অনেকে ইরানের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের প্রতি ‘জবাব’ হিসেবে দেখছেন, কারণ পাকিস্তান ইরানি তেল আমেরিকায় পুনরায় রুট করে দেওয়ার অভিযোগে জড়িত ছিল বলে ইরান দাবি করছে।হরমুজ প্রণালী বিশ্বের তেল পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট।

Advertisements

এখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল যায়। ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকা যুদ্ধের মধ্যে ইরান এই প্রণালী নিয়ন্ত্রণে কড়া অবস্থান নিয়েছে। পাকিস্তানি ট্যাঙ্কারটি যখন প্রণালী পার হচ্ছিল, তখনই ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ট্যাঙ্কারটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলে প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে। এখনও পর্যন্ত ক্রু সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক।ইরানের পক্ষ থেকে এখনও সরাসরি দায় স্বীকার করা হয়নি, তবে তেহরানের কাছাকাছি সূত্রগুলো বলছে, এটি পাকিস্তানের ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ জবাব।

আরও দেখুনঃ সমুদ্রের নতুন ‘অদৃশ্য’ যোদ্ধা! ভারত ও জাপানের ‘ইউনিকর্ন’ রাডার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাবে

অভিযোগ উঠেছে যে, পাকিস্তান ইরান থেকে আমদানি করা তেলের কিছু অংশ আমেরিকায় পুনরায় রুট করে দিয়েছে। ইরান মনে করে, পাকিস্তানকে বিশ্বাস করে তাদের ট্যাঙ্কারগুলোকে হরমুজ দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পাকিস্তান সেই বিশ্বাস ভেঙেছে। কয়েকদিন আগেও ইরান পাকিস্তানি ট্যাঙ্কারকে নিরাপদে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে।পাকিস্তান সরকার এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

বিদেশমন্ত্রক এক বিবৃতিতে বলেছে, “এটি একটি অগ্রহণযোগ্য আক্রমণ। আমাদের নাগরিক ও সম্পত্তির ওপর হামলা সহ্য করা হবে না।” ইসলামাবাদ ইরানের কাছে তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা চেয়েছে এবংরাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাকিস্তানি নৌবাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ইতিমধ্যেই চাপের মধ্যে ছিল।

ইরান-পাকিস্তান সীমান্তে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা, বালুচিস্তান ইস্যু এবং আঞ্চলিক রাজনীতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য দীর্ঘদিনের। এর মধ্যে তেলের ট্যাঙ্কার ধ্বংসের ঘটনা উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধু একটি ট্যাঙ্কারের ঘটনা নয়, বরং আঞ্চলিক শক্তির খেলার অংশ। ইরান তার অর্থনৈতিক চাপের মুখে যেকোনো ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ সহ্য করতে প্রস্তুত নয়।