তেহরান: ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে। (US Destroyer)তারা বলছে ভারত মহাসাগরে একটা আমেরিকান ডেস্ট্রয়ার ধ্বংস করা হয়েছে। সঙ্গে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে একটা ভিডিও, যাকে তারা প্রমাণ বলে দাবি করছে। কিন্তু এই ভিডিও দেখে অনেকের মনে সন্দেহ জেগেছে এটা কি আসল? নাকি এআই দিয়ে তৈরি? এখন বিশেষজ্ঞরা এবং ফ্যাক্ট-চেকাররা এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়েছে দ্রুত। ইরানের কিছু চ্যানেল, যেমন ওফোগ টিভি বা আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট মিডিয়া, এই ধরনের সিমুলেশন ভিডিও প্রচার করেছে। ভিডিওতে দেখা যায় একটা আমেরিকান যুদ্ধজাহাজে মিসাইল আঘাত হচ্ছে, বিস্ফোরণ হচ্ছে, জাহাজ ডুবে যাচ্ছে। কিন্তু বিস্তারিত পরীক্ষায় দেখা গেছে, এতে অনেক অসঙ্গতি রয়েছে। বিস্ফোরণের ধরন অত্যধিক নাটকীয়, ধোঁয়া ও আগুনের প্যাটার্ন অস্বাভাবিক, জাহাজের গতিবিধি স্থির মনে হয়, মিসাইলের ট্র্যাজেক্টরি অবাস্তব। এসব লক্ষণ এআই-জেনারেটেড ভিডিওর সাধারণ চিহ্ন।
বিবিসি ভেরিফাই, এএফপি ফ্যাক্ট চেক, এমইএমআরআই-এর মতো সংস্থাগুলো এই ধরনের কনটেন্ট নিয়ে আগেও সতর্ক করেছে। ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের স্টেট টিভিতে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন বা জেরাল্ড আর ফোর্ড-এর মতো এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ধ্বংসের সিমুলেশন দেখানো হয়েছে, যা স্পষ্টভাবে এআই-তৈরি বলে চিহ্নিত। সুপ্রিম লিডার আলি খামেনেইয়ের বক্তব্যের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে “যুদ্ধজাহাজ বিপজ্জনক, কিন্তু যে অস্ত্র তাকে ডুবিয়ে দিতে পারে, সেটা আরও বিপজ্জনক।” এটা মূলত প্রোপাগান্ডা, মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ।
এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে আজকের যুগে যুদ্ধ শুধু মাঠে নয়, অনলাইনেও চলছে। ইরানের মতো দেশ প্রোপাগান্ডা ছড়াতে এআই-কে ব্যবহার করছে, যাতে নিজের শক্তি দেখানো যায় এবং শত্রুকে ভয় দেখানো যায়। অন্যদিকে, আমেরিকা-ইজরায়েলের পক্ষ থেকেও কাউন্টার-ন্যারেটিভ চলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের ফেক ভিডিও দ্রুত ছড়ায় লক্ষ লক্ষ ভিউ, লাইক পায়। কিন্তু সত্য যাচাই না করে বিশ্বাস করলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।



















