শেষ কয়েক ঘন্টায় মার্কিন-ইসরায়েল স্থাপনাতে তান্ডব চালাল ইরান

পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা ক্রমশই বাড়ছে। শুক্রবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছে, (Iran attack)তারা কুয়েত উপকূলের কাছে একটি মার্কিন মালিকানাধীন তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। ইরানের সরকারি…

iran-attack-us-oil-tanker-kuwait-irgc-missile-strike-israel

পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা ক্রমশই বাড়ছে। শুক্রবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছে, (Iran attack)তারা কুয়েত উপকূলের কাছে একটি মার্কিন মালিকানাধীন তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। ইরানের সরকারি রেডিও জানিয়েছে, হামলার পর ওই জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইরানের যুদ্ধকালীন সামরিক কমান্ড হিসেবে পরিচিত খাতাম-আল- আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের সূত্রে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কুয়েত উপকূলের কাছে থাকা একটি “মার্কিন মালিকানাধীন” তেল ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। যদিও জাহাজটির সঠিক ক্ষয়ক্ষতি এবং ক্রুদের অবস্থা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

   

আরও দেখুনঃ ৮০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোস-এ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে ভারত, এই বছরই হবে পরীক্ষা

এই হামলার পাশাপাশি ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী (আইআরজিসি) আরও বড় দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান “নতুন প্রজন্মের” মিসাইল ব্যবহার করে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের মিসাইল হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিওন বিমান বন্দর। এছাড়াও ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহর তেল অভিব এবং হাফীফাতেও হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

যদিও এই দাবিগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকা, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে এবং একাধিক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা সামনে এসেছে।

এদিকে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাসাদের আকাশেও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা মেহের জানিয়েছে, সেখানে একটি “শত্রু বিমান” সনাক্ত করা হয় এবং ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী সেটিকে আটক বা প্রতিহত করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং যে কোনও অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যদিও ওই বিমানের পরিচয় বা উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি প্রমাণ করছে যে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এখন সমুদ্র, আকাশ এবং স্থল সব ক্ষেত্রেই ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই অঞ্চল দিয়ে যায়। ফলে এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে আমেরিকা বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই হামলার দাবিগুলির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক মহল আশঙ্কা করছে, পরিস্থিতি যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে এই সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে।