বিপদে চিন? ভারতের ব্রহ্মোসের পর এবার দক্ষিণ কোরিয়া থেকে চেওনগুং-২ কিনছে ইন্দোনেশিয়া

Cheongung II missile: দক্ষিণ চিন সাগরে চিনের আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে উদ্বেগের জেরে ইন্দোনেশিয়া দ্রুত তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে। এর অংশ হিসেবে তারা ভারত থেকে…

Cheongung-II-missile

Cheongung II missile: দক্ষিণ চিন সাগরে চিনের আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে উদ্বেগের জেরে ইন্দোনেশিয়া দ্রুত তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে। এর অংশ হিসেবে তারা ভারত থেকে ‘ব্রহ্মোস’ (BrahMos) ক্ষেপণাস্ত্র কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি, দক্ষিণ কোরিয়ার ‘এমএসএএম-২ চেওনগুং-২’ (MSAM-II Cheongung-II) ব্যবস্থা সংগ্রহের জন্যও তারা সবুজ সংকেত দিয়েছে। ‘চেওনগুং-২’ (Cheongung-II) হলো দক্ষিণ কোরিয়ার একটি অত্যাধুনিক ও মাঝারি পাল্লার ভূমি-থেকে-আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র (SAM) ব্যবস্থা। এটি ‘কেএম-স্যাম ব্লক ২’ (KM-SAM Block II) নামেও পরিচিত। মূলত চিনের ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন ধ্বংস করার লক্ষ্যে এটি মোতায়েন করা হবে।

ইন্দোনেশিয়া ‘চেওংগুং-২’ (Cheongung-II) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ক্রয় করতে যাচ্ছে

   

ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের লজিস্টিকস বিভাগ ১৮ মে ২০২৬ তারিখে ‘এলআইজি ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস’-এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ‘লেটার অফ ইন্টারেস্ট’ (আগ্রহপত্র) জারি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ‘চেওংগুং-২’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার নির্মাতা ‘এলআইজি নেক্স১’ (LIG Nex1)-এর একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান।

তবে, এই চিঠিটি ইন্দোনেশিাকে ক্রয়ের বিষয়ে আইনগতভাবে বাধ্য করে না। চুক্তিটি মূলত অর্থায়ন অনুমোদন, মূল্য পরিশোধের শর্তাবলি এবং কার্যকারিতা সংক্রান্ত নিশ্চয়তার ওপর নির্ভর করছে। তা সত্ত্বেও, এটি মধ্যম-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি পূরণে ইন্দোনেশিয়ার আগ্রহকেই তুলে ধরে—যে ঘাটতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রধান ও সংকীর্ণ পথগুলো (chokepoints) বিভিন্ন ঝুঁকির মুখে পড়ে।

চেওংগুং-২ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা চুক্তিতে কী কী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে?

প্রস্তাবিত সংগ্রহ প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে একটি এনগেজমেন্ট কন্ট্রোল স্টেশন, মাল্টি-ফাংশন রাডার, ভার্টিক্যাল লঞ্চ সিস্টেম, ট্রান্সপোর্টার-ইরেক্টর-লঞ্চার, মিসাইল ট্রান্সলোডার ভেহিকল, অতিরিক্ত যন্ত্রাংশের তালিকা, প্রযুক্তিগত নথিপত্র, সমন্বিত লজিস্টিক সহায়তা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ব্যবস্থা। এগুলোর লক্ষ্য হলো ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা-শিল্প বিষয়ক বাস্তুতন্ত্রকে শক্তিশালী করা। ‘চেওংগুং-২’ (Cheongung II) ব্যবস্থাটি গ্রহণের সিদ্ধান্তটি এমন একটি বহুমুখী ও সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টার অংশ, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, লোইটারিং মিউনিশন, ড্রোন এবং দূরপাল্লার নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম প্ল্যাটফর্মগুলোকে প্রতিহত করতে সক্ষম।