ইরাক: ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী এরবিলের কাছে ব্রিটিশ কোম্পানি ক্যাস্ট্রলের তেলের গুদামে (Erbil oil depot)সম্ভবত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ছোড়া ড্রোন হামলায় ব্যাপক আগুন ধরে গেছে। বুধবার এরবিল-মসুল সড়কের পাশে সরদার গ্রুপ পরিচালিত ক্যাস্ট্রল তেলের গুদামগুলোতে ড্রোনটি আঘাত হানে। ফলে বিশাল আগুনের শিখা আকাশ ছুঁয়ে যায়। কালো ধোঁয়ার মেঘে ঢেকে যায় চারপাশ।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ড্রোনটি সরাসরি গুদামের ভিতরে পড়ে তেল ও লজিস্টিক সামগ্রীতে আগুন ধরিয়ে দেয়। অগ্নিনির্বাপক দল ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ করছে।একটি কোম্পানি সূত্র শাফাক নিউজকে জানিয়েছে, “ড্রোনটি গুদামের ভিতরে আছড়ে পড়তেই বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। আগুন এত তীব্র ছিল যে দূর থেকেও দেখা যাচ্ছিল লাল-কমলা শিখা।”
আরও দেখুনঃ ঝড় কমতেই চড়ছে পারদ, এপ্রিলেই ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রার পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতরের
সৌভাগ্যবশত এখনও কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে আগুনের তীব্রতায় গুদামের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেলের স্টক ও সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।এই হামলার পিছনে ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের ড্রোন হামলা নতুন নয়।
আশাব আল-কাহফসহ কয়েকটি গোষ্ঠী ইতিমধ্যে মার্কিন ও পশ্চিমা স্বার্থের বিরুদ্ধে হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে ক্যাস্ট্রল গুদামে এই নির্দিষ্ট হামলার দায় এখনও কেউ সরাসরি স্বীকার করেনি। ইরাকি কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে এবং এরবিলের নিরাপত্তা বাহিনী এলাকা ঘিরে রেখেছে।স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত।
এরবিল-মসুল সড়কের কাছাকাছি গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, “ হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে যায়। জানালা খুলে দেখি আকাশ লাল হয়ে গেছে। আমাদের বাচ্চারা ভয়ে কাঁদছে। এখনও ধোঁয়া উঠছে। কবে এই হামলা বন্ধ হবে?” অনেক পরিবার রাতের অন্ধকারে ঘর ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় চলে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। এলাকার দোকানপাট ও যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।



















