বেজিং: বিবাহবিচ্ছেদের নিয়মে বড় পরিবর্তন হল চিনে। (China Divorce)সম্পত্তি আর সমান ভাগাভাগি নয়, শুধুমাত্র যা কিনেছেন বা যতটুকু অবদান রেখেছেন, তাই পাবেন। বিয়ের আগে কোনো পুরুষের যে সম্পত্তি ছিল, বিচ্ছেদের পরও তা তাঁরই থাকবে। শুধু বিয়ে করে লাখ লাখ টাকার সম্পত্তির অধিকারী হয়ে বিচ্ছেদ চাইলে আর চলবে না। নতুন আইনের ফলে চিনে বিবাহবিচ্ছেদের হার কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
তবে মহিলা মহলের একাংশ এই আইনে হতাশা ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।চিন সরকার সম্প্রতি বিবাহবিচ্ছেদ আইনে এই গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এনেছে। আগে অনেক ক্ষেত্রে সম্পত্তি ৫০-৫০ ভাগে ভাগ হয়ে যেত। নতুন নিয়মে স্পষ্ট করা হয়েছে, বিবাহের আগের সম্পত্তি ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবেই গণ্য হবে। বিয়ের পর যৌথভাবে কেনা বা তৈরি সম্পত্তিতেও শুধু নিজের অবদানের অনুপাতে ভাগ পাওয়া যাবে।
আরও দেখুনঃ ইরানের পাল্টা মারণ আঘাত: ধ্বংস মার্কিন প্যাট্রিয়ট সিস্টেম, পুড়ছে ড্রোন বহর
অর্থাৎ, যদি স্বামী বিয়ের আগে বাড়ি, গাড়ি বা ব্যবসা করে থাকেন, তাহলে বিচ্ছেদে স্ত্রী সেগুলোর অংশ দাবি করতে পারবেন না। শুধু বিয়ের পর যৌথভাবে যা অর্জিত হয়েছে, তার মধ্যে নিজের অবদান দেখাতে হবে।এই আইনের পেছনে চিন সরকারের যুক্তি হলো, বিবাহকে আরও দায়িত্বশীল ও স্থিতিশীল করা। দেশটিতে গত কয়েক বছরে বিবাহবিচ্ছেদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
অনেক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য দ্রুত বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নতুন আইনের ফলে এমন ‘সুবিধাবাদী’ বিচ্ছেদ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তন বিবাহকে আরও গুরুত্বসহকারে নেওয়ার প্রবণতা বাড়াবে। বছর শেষে বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমতে পারে।তবে মহিলা মহলের একাংশ এই আইনে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
আরও দেখুনঃ থাইল্যান্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! ব্যাংককের পাবে মধ্যরাতের আগুনে মৃত অন্তত ২৭
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক নারী লিখেছেন, এটি নারীদের অধিকার খর্ব করছে। একজন তরুণী লেখেন, “বিয়ের পর সংসার সামলান, সন্তান লালন-পালন, কর্মক্ষেত্রে স্বামীর পাশে থাকা এসব কি অবদান নয়? শুধু টাকা দিয়ে অবদান মাপা যায় না।” অনেকে আশঙ্কা করছেন, এই আইনের ফলে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে আরও দুর্বল হয়ে পড়বেন, বিশেষ করে যাঁরা গৃহিণী হিসেবে সংসার দেখাশোনা করেন। কিছু নারী অধিকার কর্মী বলছেন, আইনটি পুরুষতান্ত্রিক সমাজকে আরও শক্তিশালী করবে।





