তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা উত্তেজনার মধ্যে নতুন বিতর্ক। (Azadi Sports Complex)তেহরানের একটি বিখ্যাত ফুটবল মাঠে হামলার অভিযোগ করেছে ইরান। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে দাবি করেছেন, রাজধানী তেহরানের ঐতিহাসিক আজাদী স্পোর্টস কমপ্লেক্সে হামলা হয়েছে। এই হামলার জন্য তিনি সরাসরি আমেরিকাকেই দায়ী করেছেন।
বাঘাই তার পোস্টে তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “এটি তেহরানের আজাদি স্পোর্টস কমপ্লেক্স একটি ফুটবল স্টেডিয়াম যাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে সেই আমেরিকার পক্ষ থেকে, যার প্রেসিডেন্টকে ফিফা ‘পিস প্রাইজ’ দিয়েছিল।”
আরও দেখুনঃ ঘরের মাঠে হতশ্রী পারফরম্যান্স মহামেডানের, টানা ৫ ম্যাচে হার সাদা কালো ব্রিগেডের
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা বার্তায় ইরানের এই মুখপাত্র আরও প্রশ্ন তুলেছেন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে। তিনি জানতে চেয়েছেন, এই ঘটনার পর ফিফা বা আইওসি কি কোনও প্রতিক্রিয়া জানাবে? তার বক্তব্য, একটি ক্রীড়া স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা হলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর নীরব থাকা উচিত নয়।
আজাদি স্পোর্টস কমপ্লেক্স ইরানের অন্যতম বৃহত্তম ক্রীড়া পরিকাঠামো এবং দেশটির ফুটবল সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এই স্টেডিয়ামে বহু আন্তর্জাতিক ম্যাচ, জাতীয় প্রতিযোগিতা এবং বড় ক্রীড়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে এই জায়গায় হামলার অভিযোগ সামনে আসতেই ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ এবং উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতের মধ্যে এই ধরনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক কূটনীতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যখন হামলার লক্ষ্য হিসেবে একটি ক্রীড়া পরিকাঠামোর কথা বলা হচ্ছে, তখন বিষয়টি শুধু সামরিক সংঘাতের সীমায় আটকে থাকে না, বরং সাংস্কৃতিক ও সামাজিক দিকেও প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে ইরানের অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আমেরিকার পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মার্কিন প্রশাসন সাধারণত এই ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সরাসরি মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকে যতক্ষণ না আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা যাচাই সম্পন্ন হয়।
এই বিতর্কের আরেকটি দিকও সামনে এসেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে ফিফা একটি নতুন পুরস্কার চালু করে, যার নাম ‘পিস প্রাইজ’। সেই পুরস্কারই প্রদান করা হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে শান্তির পক্ষে কাজ করা নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন এবং এমনকি নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্যও প্রচার চালিয়েছিলেন। ফলে এখন ইরানের পক্ষ থেকে এই পুরস্কারকে ঘিরে কটাক্ষ করা হচ্ছে। তাদের বক্তব্য, যে দেশের প্রেসিডেন্ট শান্তির পুরস্কার পেয়েছেন, সেই দেশের পক্ষ থেকেই যদি ক্রীড়া অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ ওঠে, তাহলে সেটি বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করে।



















