ওয়াশিংটন: তাঁর উপর হতে পারে প্রাণঘাতী হামলা৷ সেই আশঙ্কা থেকেই সরাসরি ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বিস্ফোরক বার্তায় ট্রাম্প জানান, যদি তেহরান তাঁকে হত্যার কোনো রকম চেষ্টা করে, তবে আমেরিকার ‘অভূতপূর্ব’ সামরিক আক্রমণের মুখে পড়তে হবে ইরানকে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ১০০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে তাক করে রাখা হয়েছে।
ট্রাম্পের বার্তা যথেষ্টই কড়া। তিনি লিখেছেন, ‘‘আমেরিকার কোনো আসীন প্রেসিডেন্টকে, এই ক্ষেত্রে আমাকে, হত্যার চেষ্টা করলে তার ফল হবে ভয়াবহ। ১০০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ইতিমধ্যেই ‘লক্স অ্যান্ড লোডেড’ বা ছোড়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। আক্রমণ হলে তার পরপরই আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করা হবে।’’ ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এই ধ্বংসাত্মক অপারেশনের জন্য আগেভাগেই প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে এই সামরিক প্রস্তুতির মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের তরফে দাবি করা হয়েছিল, ট্রাম্পকে হত্যার জন্য নতুন করে ছক কষছে ইরান। যদিও ট্রাম্প নিজেই এই তথ্যের সত্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘ইসরায়েল নতুন কোনো তথ্য পায়নি। আমি তো অনেকদিন ধরেই ইরানের হিট লিস্টের এক নম্বরে রয়েছি। এটা তো এখন জীবনেরই অঙ্গ।’’ তবে ইসরায়েলের গোয়েন্দা রিপোর্টকে পাত্তা না দিলেও, ইরানকে যে তিনি এক চুলও ছাড়তে রাজি নন, তা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট।
ইরানের সঙ্গে আমেরিকার বর্তমান সম্পর্ক সাপে-নেউলে। একদিকে সামরিক হুঙ্কার, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার চেষ্টা, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি থমথমে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান নতুন করে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। ওয়াশিংটন তাতে রাজি হলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, গত মাসে যেটুকু যুদ্ধবিরতি ছিল, তা এখন কার্যত অতীত। অর্থাৎ, ইরানের ওপর এখন আর কোনো বিধিনিষেধ বা যুদ্ধবিরতির শর্ত কার্যকর নয়।
২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে বাগদাদে ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্তা কাসেম সোলেমানির মৃত্যুর পর থেকেই তেহরান প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে। বহুবার মার্কিন প্রশাসন দাবি করেছে, ট্রাম্পকে খতম করার একাধিক পরিকল্পনা করেছে ইরান। তেহরান অবশ্য তা বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে। কিন্তু শনিবার ট্রাম্পের এই ‘১০০০ ক্ষেপণাস্ত্র’-এর হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ফের নতুন করে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘন করল বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
পাকিস্তানকে ছুড়ে ফেলে যৌথ বৈঠকে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে মাইলফলক আফগানিস্তানের
ট্রাম্পকে হত্যার নয়া ছক ইরানের? ইসরায়েলি গোয়েন্দা রিপোর্টে তীব্র চাঞ্চল্য




