‘যুবসাথী’র টাকায় গুটখার খরচ! তৃণমূল নেতার মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্য সরকারের ঘোষিত ‘যুবসাথী’ প্রকল্প নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। মাধ্যমিক পাশ বেকার যুবক-যুবতীদের মাসে দেড় হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার এই প্রকল্প ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us

কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্য সরকারের ঘোষিত ‘যুবসাথী’ প্রকল্প নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। মাধ্যমিক পাশ বেকার যুবক-যুবতীদের মাসে দেড় হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার এই প্রকল্প আসলে গুটখা বা পান মশলা খাওয়ার খরচ জোগাবে ময়নাগুড়ির তৃণমূল টাউন ব্লক সভাপতি বিশ্বজিৎ সেনের এমন মন্তব্য ঘিরেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। যদিও এই ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি কলকাতা ২৪x৭।

কী বলেছেন তৃণমূল নেতা?

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে ময়নাগুড়ির তৃণমূল টাউন ব্লক সভাপতি বিশ্বজিৎ সেনকে বলতে শোনা যায়, “মহিলাদের ভোট তো নিশ্চিত হয়েছেই, এবার যুবকদের ভোটটাও ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে দিদি নিশ্চিত করে দিলেন।”

   

তৃণমূল নেতার বিস্ফোরক মন্তব্য, “আজকালকার যুবকদের একটা বড় অংশ পান গুটখা খায়। তাদের ওই জায়গায় সাহায্য হবে। প্রচারের সময় বলতে হবে, মাসে এক হাজার টাকা তো গুটখারই খরচ, সেই টাকা তো দিদি দেবেন।” উত্তরবঙ্গের এই নেতার দাবি, এই প্রকল্পের ফলে ভোটে জেতা কেবল সময়ের অপেক্ষা।

বিরোধীদের কটাক্ষ ও শাসকদলের প্রতিক্রিয়া yubasathi scheme controversy

এই মন্তব্যের পর স্বভাবতই আসরে নেমেছে বিরোধী দলগুলো। একে ‘কর্মসংস্থানের বদলে ভাতার রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করেছেন বিরোধীরা। তাদের মতে, যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত না করে নেশার খরচ জোগানোর প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছেন তৃণমূলের নেতারাই।

এদিকে, ভিডিওটি ভাইরাল হতেই অস্বস্তিতে পড়া তৃণমূল কংগ্রেস এটিকে ‘এআই’ (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির কারসাজি বলে দাবি করেছে। জলপাইগুড়ির যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি রামমোহন রায় বলেন, “বিশ্বজিৎ সেনের নেতৃত্বকে ভয় পাচ্ছে বিজেপি। তাই এআই ব্যবহার করে ভিডিওটি বানানো হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকে খাটো করতেই এসব করা হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, আসন্ন নির্বাচনের আগে এই প্রকল্পটির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে শাসকদল। কিন্তু দলেরই এক নেতার এই মন্তব্য ভোটের সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google