যোগ দিবসে সরকারি কর্মচারীদের যোগদান বাধ্যতামূলক করা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। রাজ্যের একাধিক সরকারি কর্মচারী সংগঠন এই নির্দেশের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাঁদের দাবি, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস একটি স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণমূলক অনুষ্ঠান হওয়া উচিত,(Calcutta High Court) যেখানে মানুষ নিজের ইচ্ছায় যোগদান করবেন, বাধ্যতামূলকভাবে নয়। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কো-অর্ডিনেশন কমিটি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, (Calcutta High Court) সরকারি নির্দেশে বলা হয়েছে সকল কর্মচারীকে নির্দিষ্ট দিনে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হবে। কিন্তু এই ধরনের বাধ্যতামূলক নির্দেশ কর্মচারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলে অভিযোগ। তাঁদের বক্তব্য, যোগ একটি মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার অনুশীলন, যা জোর করে চাপিয়ে দিলে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
কো-অর্ডিনেশন কমিটির (Calcutta High Court) আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেছেন, সরকারি কর্মচারীদের অফিসিয়াল ডিউটি ছাড়া অন্য কোনও কর্মসূচিতে বাধ্যতামূলকভাবে অংশ নিতে বলা সংবিধানসম্মত নয়। বিশেষ করে যেখানে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে স্বেচ্ছামূলক হওয়া উচিত, সেখানে প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করা অযৌক্তিক বলে তারা মনে করছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে আর্জি জানানো হয়েছে, যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ যেন সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাধীন রাখা হয়।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যোগ দিবস একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন অনুষ্ঠান। সরকারি কর্মচারীদের অংশগ্রহণ এই কর্মসূচিকে সফল করতে সহায়তা করে। সরকারের মতে, কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করলে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং সমাজে যোগ চর্চার বার্তা আরও শক্তিশালীভাবে পৌঁছে যায়। এই বিতর্ক এখন আদালতের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের(Calcutta High Court) বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে এই মামলার শুনানি হতে পারে। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে পরবর্তী নির্দেশ দিতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির একাংশের মতে, এমন নির্দেশ ভবিষ্যতে অন্য স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক বা সাংস্কৃতিক কর্মসূচির ক্ষেত্রেও বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণের নজির তৈরি করতে পারে, যা উদ্বেগের বিষয়। তাই তারা চান, এই ধরনের নির্দেশ জারি করার আগে কর্মচারী সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা করা হোক।



