মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ, পাল্টা জবাব শাহের

Women’s Reservation Bill Sparks Storm in Parliament, Amit Shah Fires Back
Women’s Reservation Bill Sparks Storm in Parliament, Amit Shah Fires Back

সংসদের বিশেষ অধিবেশন শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল লোকসভা। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ হওয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল শুরু থেকেই। কেন্দ্রীয় সরকার এই অধিবেশনে যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন করে, সেগুলি হলো মহিলা সংরক্ষণ বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল।

অধিবেশনের সূচনাতেই বিরোধীরা আসন পুনর্বিন্যাস বিলকে কেন্দ্র করে তীব্র আপত্তি তোলে। তাদের অভিযোগ, এই বিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে ছেলেখেলা করছে এবং গণতান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্ট করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে লোকসভা ও বিধানসভা আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়াকে জনগণনার সঙ্গে আলাদা করে দেখানোকে তারা সন্দেহের চোখে দেখছে।

   

এই প্রসঙ্গে সমাজবাদী পার্টির (SP) সাংসদ ধর্মেন্দ্র যাদব, দলের নেতা অখিলেশ যাদবের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, “সরকার সংবিধানকে বিকৃত ও বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে।” তাঁর দাবি, জনগণনার ভিত্তিতেই আসন পুনর্বিন্যাস হওয়া উচিত, কিন্তু বর্তমান নীতিতে সেই স্বচ্ছতা নেই। বিশেষ করে জনসংখ্যার সামাজিক বাস্তবতাযেমন ওবিসি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব উপেক্ষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয় যখন সমাজবাদী পার্টি জানায়, ওবিসি এবং মুসলিম মহিলাদের জন্য আলাদা সংরক্ষণের নিশ্চয়তা না থাকলে তারা মহিলা সংরক্ষণ বিলকে সমর্থন করবে না। তাদের মতে, কেবল সাধারণভাবে মহিলা সংরক্ষণ ঘোষণা করলেই হবে না, সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশের নারীদের জন্যও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। এই অবস্থান ঘিরে সংসদের ভিতরে এবং বাইরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।

এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমিত শাহ বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার জবাব দেন। তিনি বলেন, “শুরুতেই কেন বিলের বিরোধিতা করা হচ্ছে? আগে তো বিলে কী আছে, তা ভালোভাবে বোঝা উচিত।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার সব প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত, কিন্তু অকারণে বিলকে খারিজ করা যুক্তিসঙ্গত নয়।

অমিত শাহ আরও জানান, জনগণনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতিভিত্তিক তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। তাঁর দাবি, এই তথ্য ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণের দাবি সম্পূর্ণভাবে অসাংবিধানিক। তাঁর মতে, সংবিধান ধর্মভিত্তিক বিভাজনকে অনুমোদন করে না, তাই এই ধরনের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। লোকসভায় এই বিতর্ক চলাকালীন একাধিকবার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বাক্যবিনিময় তীব্র আকার নেয়। মহিলা সংরক্ষণ বিল, যা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল, সেটিও এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির বাইরে থাকতে পারেনি। বিরোধীরা যেখানে সামাজিক ন্যায় ও অন্তর্ভুক্তির প্রশ্ন তুলছে, সেখানে সরকার বিলটিকে নারীর ক্ষমতায়নের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে।