খাদ্যশস্য কেলেঙ্কারিতে ইডির হাতে ১৮ লক্ষ! জালে প্রভাবশালী

west-bengal-pds-scam-ed-raid-niranjan-chandra-saha

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগে একটি বড় খবর এসেছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (PDS scam ED) কলকাতা জোনাল অফিস ২৭ এপ্রিল থেকে রাজ্যের তিনটি জেলায় একযোগে বড়সড় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (পিডিএস) কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত অর্থ পাচার মামলায় নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা ও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে যুক্ত ২৫টি জায়গায় এই অভিযান চলে।

   

কলকাতা, হাবড়া (উত্তর ২৪ পরগনা) ও বর্ধমানে সরবরাহকারী, রফতানিকারক ও তাঁদের আত্মীয়-পরিজনদের অফিস ও বাসস্থানে তল্লাশি চালানো হয়।অভিযানে ইডি কর্মকর্তারা উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে মোট ১৮.৪ লক্ষ টাকার নগদ টাকা, অসংখ্য অপরাধমূলক নথিপত্র এবং ডিজিটাল প্রমাণ উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই নথিপত্র ও ডিজিটাল তথ্য এখন বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ইডি সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা একটি সুসংগঠিত চক্রের মাধ্যমে পিডিএসের জন্য বরাদ্দ সরকারি গমকে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে সরিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে দিতেন।

আরও দেখুনঃ ভোটের আগে যাদবপুরে বাম শিবিরের বড় সাফল্য, উচ্ছ্বাস তুঙ্গে

সস্তায় কিনে বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। সরবরাহকারী, লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিলার, মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগসাজশে এই কাজ চলত বলে অভিযোগ।এই মামলার শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে। বসিরহাট থানায় কাস্টমস বিভাগের এক অভিযোগের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ প্রথমে এফআইআর দায়ের করে। পরে সেই মামলা থেকে অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠলে ইডি প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ) ২০০২-এর অধীনে তদন্ত শুরু করে।

নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা ছাড়াও সুসান্ত সাহা, সমীর কুমার চন্দ্র, পার্থ সাহা, মা অন্নপূর্ণা রাইস কনসার্ন, আদর্শ ইন্টারন্যাশনাল, সাগর এন্টারপ্রাইজেসসহ একাধিক ব্যক্তি ও সংস্থার সঙ্গে যুক্ত জায়গায় তল্লাশি হয়েছে।ইডির এই অভিযান রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, তৃণমূল শাসিত পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি যে কতটা গভীরে শিকড় গেঁড়েছে , তার আরেকটি প্রমাণ এই পিডিএস কেলেঙ্কারি।

সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ খাদ্যশস্য লুট করে একশ্রেণির লোক লাভবান হয়েছেন বলে তাঁরা অভিযোগ করছেন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত এই অভিযান নিয়ে কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেয়নি।স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রেশন কেলেঙ্কারির সত্যি তথ্য বেরিয়ে আসুক।

গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ খাবার যদি সত্যিই লুট হয়ে থাকে, তাহলে দোষীদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। আবার কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, নির্বাচনের মাঝে এই ধরনের অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না। তবে ইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে চলছে এবং প্রমাণ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।