
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটযুদ্ধ যত এগিয়ে আসছে, নির্বাচন কমিশনও তত কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। (Ajay Pal Sharma)২৯ এপ্রিলের ভোটকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করতে কমিশন উত্তরপ্রদেশ থেকে এক বিশেষ পুলিশ অবজার্ভার পাঠিয়েছে। তিনি আর কেউ নন যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে ‘সিংহম’ নামে পরিচিত আইপিএস অফিসার আজয় পাল শর্মা। এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট হিসেবে খ্যাত এই অফিসারকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ সংবেদনশীল এলাকার পুলিশ অবজার্ভারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আজয় পাল শর্মা স্পষ্ট ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “জনগণকে হুমকি দেওয়ার সাহসও দেখাবেন না। আমি জাহাঙ্গিরের মতো গুন্ডাদের সতর্ক করছি। কোনো অভিযোগ পেলে সবচেয়ে বড় গুন্ডাকেও ছাড়ব না।” এই কড়া মন্তব্যের পর রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতারা এটাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, বাংলায় বাইক-বাহিত ভয় দেখানো, বোমাবাজি ও ভোটারদের ভয় দেখানোর ঘটনা বন্ধ করতে এমন একজন অভিজ্ঞ অফিসারের প্রয়োজন ছিল।
আরও দেখুনঃ খাদ্যশস্য কেলেঙ্কারিতে ইডির হাতে ১৮ লক্ষ! জালে প্রভাবশালী
আজয় পাল শর্মা উত্তরপ্রদেশ পুলিশে অতিরিক্ত কমিশনার ও প্রয়াগরাজের ডিআইজি হিসেবে কর্মরত। যোগী সরকারের আমলে অপরাধ দমনে তাঁর কঠোর ভূমিকার জন্য তিনি ‘সিংহম’ উপাধি পেয়েছেন। এনকাউন্টারে জড়িত থাকার অভিযোগে বিতর্কিত হলেও, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁর দক্ষতা নিয়ে অনেকেই প্রশংসা করেন। নির্বাচন কমিশন মোট ১১ জন অতিরিক্ত পুলিশ অবজার্ভার নিয়োগ করেছে, যার মধ্যে আজয় পাল শর্মা শীর্ষে রয়েছেন। সব অবজার্ভারই অন্য রাজ্য থেকে আনা হয়েছে, যাতে নিরপেক্ষতা বজায় থাকে।
দ্বিতীয় দফার ভোটে ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। প্রথম দফায় কিছু জায়গায় বোমাবাজি, বাইক র্যালি ও ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল। নির্বাচন কমিশন চায়, দ্বিতীয় দফায় যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। আজয় পাল শর্মার মতো অফিসারকে পাঠানোর পিছনে সেই উদ্দেশ্যই কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাজকর্ম নজরদারি করবেন, প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।
তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরে অবশ্য এই নিয়োগ নিয়ে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। দলের কয়েকজন নেতা বলছেন, বিজেপি-শাসিত উত্তরপ্রদেশের একজন অফিসারকে বাংলায় পাঠানো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, এতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ হতে পারে। অন্যদিকে বিজেপি নেতারা বলছেন, “বাংলায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে যোগীর মডেল দরকার।

