কলকাতা: রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য এল বড় সুখবর! দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অভিযোগ এবং অপেক্ষার অবশেষে অবসান৷ রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য বড়সড় সুখবর দিল নতুন সরকার। ক্ষমতায় আসার মাত্র দেড় সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করে রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) গঠনে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা।
সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর পৌরহিত্যে রাজ্য মন্ত্রিসভার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পাঁচ জন মন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
কী কী সিদ্ধান্ত হলো মন্ত্রিসভার বৈঠকে?
রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এদিন সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্তে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে মন্ত্রিসভা। পুরমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, শুধুমাত্র রাজ্য সরকারি কর্মী নন, পাশাপাশি বিভিন্ন বোর্ড, নিগম, স্থানীয় সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন কাঠামো সংশোধনের লক্ষ্যে এই কমিশন কাজ করবে।
সপ্তম পে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্তে সরকারি কর্মীদের মধ্যে উৎসবের মেজাজ তৈরি হলেও, বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মেটানোর বিষয়ে এদিন মন্ত্রিসভায় কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেই প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
বেতন বৃদ্ধির সম্ভাব্য রূপরেখা
সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, রাজ্যে সপ্তম পে কমিশন গঠিত হয়ে তা কার্যকর হলে আর্থিক দিক থেকে ব্যাপক লাভবান হবেন কর্মীরা। বর্তমান পরিকাঠামোয় একলাফে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে কর্মীদের মূল বেতন বা ‘বেসিক পে’ (Basic Pay)।
এদিনের ক্যাবিনেট বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, “রাজ্য সরকারি কর্মী, বোর্ড, নিগম, স্থানীয় সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন কাঠামো সংশোধনের লক্ষ্যে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির তরফ থেকে প্রকাশিত ‘সংকল্পপত্র’ বা ইস্তাহারে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম পে কমিশন গঠনের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। গোটা ভোটপ্রচার জুড়েই এই বিষয়টিকে অন্যতম হাতিয়ার করেছিল গেরুয়া শিবির। সরকার পরিবর্তনের পর শপথ নেওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথাতেই মন্ত্রিসভায় এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করিয়ে নতুন প্রশাসন বুঝিয়ে দিল, ইস্তাহারের প্রতিশ্রুতি রূপায়ণে তারা বদ্ধপরিকর। এখন অর্থ দফতরের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্যের আপামর সরকারি কর্মীরা।




















