গ্রামীণ কর্মসংস্থানে বড় চমক দিলীপের!১২৫ দিনের গ্যারান্টিতে চালু হল VB-G RAM G প্রকল্প

কলকাতা: রাজ্যের গ্রামীণ কর্মসংস্থানে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে নতুন প্রকল্প VB-G RAM G (VB-G RAM G)-এর সূচনা করলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার হাওড়ার উলুবেড়িয়া ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
vb-g-ram-g-scheme-125-days-rural-employment-dilip-ghosh

কলকাতা: রাজ্যের গ্রামীণ কর্মসংস্থানে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে নতুন প্রকল্প VB-G RAM G (VB-G RAM G)-এর সূচনা করলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার হাওড়ার উলুবেড়িয়া ২ ব্লকের জোয়ারগোড়ি গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধনের দিনই কোদাল হাতে নিয়ে ন্যাচা খাল পরিষ্কারের কাজে অংশ নেন মন্ত্রী, যা প্রকল্পের কার্যকর সূচনার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

দিলীপ ঘোষ জানান, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই VB-G RAM G প্রকল্পের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় আবাস যোজনা এবং প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার কাজ শুরু করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প থমকে ছিল। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে এবার গ্রামীণ উন্নয়নকে নতুন গতি দেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

   

আরও দেখুনঃ চালু হলো কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প, কী কী সুবিধা মিলবে বাংলায়?

VB-G RAM G প্রকল্পের অন্যতম বড় আকর্ষণ হল বছরে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা। এতদিন গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ১০০ দিনের কাজের বিষয়টি বেশি পরিচিত ছিল। নতুন প্রকল্পে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলির হাতে আরও বেশি কর্মদিবস এবং আয়ের সুযোগ তৈরি হবে বলে সরকারের আশা।

মন্ত্রী আরও জানান, এই প্রকল্পের আওতায় দক্ষ, অর্ধদক্ষ এবং অদক্ষ সব ধরনের শ্রমিক কাজের সুযোগ পাবেন। রাস্তা নির্মাণ, খাল ও নিকাশি সংস্কার, পুকুর খনন, গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং শৌচাগার নির্মাণের মতো বিভিন্ন কাজে শ্রমিকদের নিয়োগ করা হবে। বিশেষভাবে প্রত্যেক পরিবারের জন্য শৌচাগার নির্মাণের লক্ষ্যও নেওয়া হয়েছে, যা গ্রামীণ স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দিলীপ ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী যে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে ‘বিকশিত ভারত’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, সেই বৃহত্তর কর্মপরিকল্পনার সঙ্গেই এই প্রকল্পকে যুক্ত করা হয়েছে। পঞ্চায়েত স্তরে উন্নয়নের গতি বাড়ানো এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ই-কেওয়াইসি (e-KYC) এবং অন্যান্য যাচাইকরণ প্রক্রিয়াও জোরদার করা হচ্ছে। কারণ, অতীতে ভুয়ো জব কার্ড এবং অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

অর্থ বরাদ্দের প্রসঙ্গে মন্ত্রী দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের জন্য ₹৭০০ কোটি টাকা দিয়েছে। এছাড়া রাস্তা নির্মাণ, শৌচাগার তৈরি এবং অন্যান্য গ্রামীণ উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আরও ₹১৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তাঁর মতে, এই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই গ্রামীণ পরিকাঠামোয় বড় পরিবর্তন দেখা যাবে। কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, যাঁদের নাম বৈধ ভোটার তালিকায় রয়েছে, তাঁরাই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন। একইসঙ্গে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google