২৪ ঘণ্টায় দ্বিতীয় উইকেট! এবার পুলিশের জালে গড়ফার তৃণমূল কাউন্সিলর অরিজিৎ

কলকাতা: বঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটতেই এবার খাস কলকাতায় দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশের অ্যাকশন জারি। এক ধাক্কায় শহরের একাধিক প্রভাবশালী নেতার শ্রীঘরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু…

tmc councilor arrested

কলকাতা: বঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটতেই এবার খাস কলকাতায় দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশের অ্যাকশন জারি। এক ধাক্কায় শহরের একাধিক প্রভাবশালী নেতার শ্রীঘরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের পুলিশের জালে ধরা পড়লেন কলকাতায় আরও এক দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর। এবার গড়ফা থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরিজিৎ দাস ঠাকুর।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে হাই-ভোল্টেজ ড্রামার পর গড়ফা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় তৃণমূল কাউন্সিলরকে। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রোমোটার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট রাজ চালানোর মারাত্মক সব অভিযোগ জমা পড়ছিল। শাসক দলের কাউন্সিলর হওয়ার সুবাদে এতদিন তাঁর ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি। তবে রাজ্যে পালাবদলের পরেই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন ভুক্তভোগীরা। কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা মেলার পর মঙ্গলবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডাকে পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ জেরার পর বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় মধ্যরাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। আজ, বুধবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে। (tmc councilor arrested)

   

২৪ ঘণ্টায় জোড়া উইকেট, কলকাতায় ত্রাহি ত্রাহি রব

কলকাতায় গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই নিয়ে মোট ২ জন তৃণমূল কাউন্সিলর পুলিশের জালে ধরা পড়লেন। গতকালই নারকেলডাঙা থানার পুলিশ তোলাবাজি ও কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শচিন সিংহকে গ্রেফতার করেছিল। ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই গড়ফায় অরিজিতের গ্রেফতারি ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে।

তালিকা ক্রমে দীর্ঘ, এর পর কে?

কলকাতায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের গ্রেফতারির এই তালিকা কিন্তু বেশ লম্বা হচ্ছে। এর আগে গত ২৩ মে তোলাবাজির একই অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা ১৬ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান সুদীপ পোল্লে । একের পর এক কাউন্সিলর শ্রীঘরে যাওয়ায় কলকাতার রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, “এবার কার পালা?”