চাপের মুখে কালীঘাট, ভরসা এখন দিল্লির দরবার

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নাটকীয়তা ক্রমশ চরমে পৌঁছচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের সুর যত জোরালো হচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। একদিকে বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের শক্তি প্রদর্শন, (Delhi) অন্যদিকে…

Kalighat Seeks Delhi's Intervention Amid Growing Turmoil

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নাটকীয়তা ক্রমশ চরমে পৌঁছচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের সুর যত জোরালো হচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। একদিকে বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের শক্তি প্রদর্শন, (Delhi) অন্যদিকে দলীয় নেতৃত্বের মরিয়া ড্যামেজ কন্ট্রোল  সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন নজিরবিহীন মোড়ে দাঁড়িয়ে।

রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, (Delhi) রবিবারের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মাত্র ১৯ জন বিধায়কের উপস্থিতি কালীঘাট-ক্যামাক স্ট্রিটের নেতৃত্বকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিয়েছে। সেই ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্রিয় হয়েছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন বলে খবর। তবে শুধুমাত্র রাজ্যের অন্দরে রাজনৈতিক সমীকরণ সামলানোর চেষ্টা নয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জাতীয় স্তরেও যোগাযোগ শুরু হয়েছে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বর্তমান সংকট মোকাবিলা করতে কালীঘাট থেকে দিল্লির সর্বোচ্চ মহল পর্যন্ত বার্তা পাঠানো হয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী আবাস ‘৭ নম্বর জনকল্যাণ মার্গ’-এও এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশেষ বার্তা পৌঁছেছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। যদিও এই দাবির কোনও সরকারি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনও সামনে আসেনি, তবুও রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

   

অন্যদিকে, বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের অবস্থান ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। (Delhi) তাঁদের বক্তব্য, কালীঘাটের একক সিদ্ধান্তে চাপিয়ে দেওয়া নেতৃত্বকে তাঁরা আর মেনে নিতে রাজি নন।  বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলনেতা সরাসরি মনোনীত করা হয় না। বরং বিরোধী দলের বিধায়করাই তাঁদের পরিষদীয় নেতা নির্বাচন করেন, এবং সেই প্রক্রিয়াকে সম্মান জানানো উচিত। তবে ঘটনাপ্রবাহ এখানেই থেমে যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক মহলের কৌতূহল এখন অন্য জায়গায়। স্পিকারের কাছে আবেদন জমা দেওয়ার পর বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী কি নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দাবি করে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হবে? যদি সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে ঘাসফুল প্রতীক এবং দলের সাংগঠনিক পরিচয়ের মালিকানা নিয়েও নতুন আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই শুরু হতে পারে।