কলকাতা: বাংলার উন্নয়নে গতি আনতে চান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি৷ আর সেই লক্ষ্যেই দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রশাসনিক জট, জমি অধিগ্রহণের সমস্যা এবং আইনি ছাড়পত্রের অভাবে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে আটকে থাকা ৫৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ১২টি কেন্দ্রীয় অবকাঠামো প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা (PSU) ও বিভিন্ন এজেন্সির সঙ্গে সমন্বয় করে সমস্ত বকেয়া সমস্যা দ্রুত মেটানোর নির্দেশ দেন তিনি।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিবহণ, জাতীয় সড়ক, তেল ও গ্যাস, কয়লা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে বড়সড় গতি আসবে।
এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক জানান, গত সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় PSU ও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে বহু বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে আটকে থাকা প্রকল্পগুলির অগ্রগতি এবং বিলম্বের কারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তিনটি বড় প্রকল্পে, যার মোট মূল্য প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা। জমি সংক্রান্ত সমস্যার কারণে এগুলির কাজ দীর্ঘদিন ধরে থমকে রয়েছে।
এর মধ্যে গেল (GAIL)-এর ১৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ রাজারামবাটি-হলদিয়া গ্যাস পাইপলাইন অন্যতম। প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি মূলত ১৭,৪০৫ কোটি টাকার জগদীশপুর-হলদিয়া ও বোকারো-ধামরা পাইপলাইন প্রকল্পের অংশ। হাওড়া ও পূর্ব মেদিনীপুরে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় জমি সংক্রান্ত সমস্যার কারণে প্রকল্পটি প্রায় দু’বছর আটকে ছিল। প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর অধিকাংশ অনুমোদন মিললেও এখনও প্রায় ২.২ কিলোমিটার অংশের অনুমোদন বাকি রয়েছে।
এছাড়া ৯,২৬৫ কোটি টাকার নর্থ ইস্ট গ্যাস গ্রিড প্রকল্প জলপাইগুড়িতে প্রায় ৩৪.৯ কিলোমিটার জমি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ২৮ মাস পিছিয়ে পড়েছে।
একইভাবে ১২,৪০৭ কোটি টাকার পারাদীপ-নুমালীগড় ক্রুড অয়েল পাইপলাইন ও পারাদীপ ক্রুড অয়েল ইমপোর্ট টার্মিনাল প্রকল্পও জলপাইগুড়িতে ‘রাইট অব ইউজ’ (RoU) সংক্রান্ত সমস্যার কারণে ২৮.৩ কিলোমিটার অংশে আটকে রয়েছে।
কয়লা মন্ত্রকের ২,৬৬১ কোটি টাকার ঝরিয়া ও রানিগঞ্জ কয়লাক্ষেত্র মাস্টার প্ল্যান প্রকল্পও দীর্ঘদিন ধরে বিলম্বিত। পশ্চিম বর্ধমানে তিনটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ৮,৭০৪টি পরিবারকে ১০,৩০৪টি ফ্ল্যাটে পুনর্বাসনের কাজ এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় প্রকল্পটি ১১৪ মাস পিছিয়ে রয়েছে। এই দায়িত্ব রয়েছে আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (ADDA) উপর।
অন্যদিকে তিলাবনি আন্ডারগ্রাউন্ড মাইন প্রকল্পের কাজও এগোচ্ছে না, কারণ ৩৮.৪ হেক্টর বনভূমির ছাড়পত্র এখনও রাজ্যের বন দফতরের অনুমোদনের অপেক্ষায়।
এছাড়াও, সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রক এবং ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অব ইন্ডিয়া (NHAI)-র অধীনে থাকা ১২,৬০০ কোটিরও বেশি মূল্যের সাতটি জাতীয় সড়ক ও অর্থনৈতিক করিডর প্রকল্প জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে।
সরকারের আশা, জমি, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং অন্যান্য জটিলতা দ্রুত মিটিয়ে এই প্রকল্পগুলির কাজ শুরু করা গেলে রাজ্যের শিল্প, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা




