কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনতে সরব (Suvendu Adhikari)হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু আধিকারী। তিনি বলেছেন, রাজ্যে এখন শিল্পের নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে একাধিক প্রকল্প চলছে। তাই বাইরে থাকা বাংলার শ্রমিকদের তিনি ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। শুভেন্দু আধিকারীর এই বক্তব্য রাজ্যজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শুভেন্দু আধিকারী বলেন, “আমি পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছে আবেদন করছি, আপনারা বাংলায় ফিরে আসুন। রাজ্যে এখন অনেক শিল্পের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ প্রকল্পগুলি ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হচ্ছে।” তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, আমুল সংস্থা ১৫ একর জমিতে আইসক্রিম উৎপাদন কারখানা স্থাপন করতে চলেছে।
আরও দেখুনঃ অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা কবে পাবেন? বড় আপডেট দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
এছাড়া আগামী দু’মাসের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া ১২টি চা বাগান আবার চালু হবে। এসব উদ্যোগে স্থানীয়ভাবে বহু কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।পরিযায়ী শ্রমিকদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে অন্য রাজ্যে কাজ করছেন। কেউ মুম্বই, ব্যাঙ্গালুরু, দিল্লিতে নির্মাণ শ্রমিক, কেউ কারখানায়, আবার কেউ ড্রাইভার বা অন্যান্য কাজে যুক্ত। করোনা মহামারীর সময় তাঁদের অনেকের দুর্দশা সবাই দেখেছেন।
ঘরে ফেরার পথে অসংখ্য সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল। শুভেন্দু আধিকারী বলেছেন, এখন আর সেই অবস্থা নেই। রাজ্যে সুযোগ তৈরি হচ্ছে, তাই তাঁরা যেন নিজের মাটিতে ফিরে এসে কাজ করেন।তিনি সরকারি কল্যাণ প্রকল্প নিয়েও আশ্বস্ত করেছেন। বলেছেন, “কোনো সরকারি কল্যাণ প্রকল্প এমনভাবে বন্ধ করা হবে না যাতে সাধারণ মানুষ কষ্ট পায়।” আয়ুষ্মান ভারত স্কিমের আওতায় যাঁরা এখনও সুবিধা পাননি, তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।
আয়ুষ্মান ভারত কার্ড বিতরণ শুরু হবে আগামী ১৬ অগস্ট থেকে। আর ৩০ অগস্টের মধ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় সব যোগ্য উপকারভোগী সুবিধা পেয়ে যাবেন। শুভেন্দু বলেন, “কোনো সাধারণ নাগরিককে কোনো অসুবিধায় পড়তে হবে না।”রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে।
বাম আমল থেকে শিল্পের পতন, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের ঘটনা, অনেক কোম্পানির রাজ্য ছাড়া এসব নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারও শিল্পায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। শুভেন্দু আধিকারী মনে করেন, এখন সময় হয়েছে বাস্তবে ফল দেখানোর। আমুলের মতো বড় সংস্থার বিনিয়োগ এবং চা বাগান চালু হওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে তিনি মনে করছেন।
আরও দেখুনঃ সংসদে ঢুকতেই ধর্মেন্দ্রকে চোর স্লোগান! পাল্টা অভ্যর্থনা বিজেপির





