১৩ বছর পর নির্বাচন আবহে জেলমুক্তি সারদা কর্তার

দীর্ঘ ১৩ বছর পর জেলমুক্তি ঘটতে চলেছে সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনের। (Saradha scam)আজ এই জামিনের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা দুটি মামলায়…

দীর্ঘ ১৩ বছর পর জেলমুক্তি ঘটতে চলেছে সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনের। (Saradha scam)আজ এই জামিনের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা দুটি মামলায় জামিন পেয়েছেন তিনি। আগামীকাল বৃহস্পতিতেই জেলমুক্তি ঘটবে সুদীপ্ত সেনের।

মঙ্গলবার বিচারপতি রাজেশ ভরদ্বাজ এবং বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি শেষ হয়। সেদিনই রায় ঘোষণা না করে তা স্থগিত রাখা হয়েছিল। অবশেষে বুধবার আদালত জানিয়ে দেয়, রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা বাকি দু’টি মামলাতেও জামিন দেওয়া হচ্ছে সুদীপ্ত সেনকে।

Advertisements

আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, সুদীপ্ত সেন আগেই সিবিআইয়ের দায়ের করা মামলাগুলিতে জামিন পেয়েছিলেন। কিন্তু রাজ্য পুলিশের অধীনে থাকা কয়েকটি মামলার কারণে এতদিন তিনি জেলবন্দি ছিলেন। বর্তমানে রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা মোট ৩০৮টি মামলার মধ্যে কার্যত এই দু’টি মামলাই তাঁর মুক্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

আরও দেখুনঃ যুদ্ধবিরতিতে মোদী প্রশংসায় চোখে জল খামেনেই প্রতিনিধি হাকিম ইলাহীর

শুনানির সময় সুদীপ্ত সেন আদালতে দাবি করেন, ২০১৩ সালে চার্জশিট পেশ হলেও এখনও পর্যন্ত তিনি সেই সংক্রান্ত নথি হাতে পাননি। তাঁর আইনজীবী সাবির আহমেদ আদালতে জানান, সারদা কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর মোট ৩৮৯টি মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই সময় ২৭ এপ্রিল তাঁকে বিধাননগর উত্তর থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং তারপর থেকেই তিনি জেলে রয়েছেন।

অন্যদিকে সিবিআই আদালতকে জানায়, ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তারা মোট ৭৬টি মামলা নিজেদের হাতে নেয়। সেই মামলাগুলির মধ্যে চারটি মামলায় ইতিমধ্যেই সুদীপ্ত সেন জামিন পেয়েছেন। ফলে আইনি দিক থেকে তাঁর মুক্তির ক্ষেত্রে আর বড় কোনও বাধা ছিল না।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, এত বছর পরেও কেন এই মামলাগুলির ট্রায়াল শুরু করা সম্ভব হয়নি। বিচারপতিরা এদিন সেই বিষয়েও রাজ্যকে প্রশ্ন করেন। দীর্ঘদিন ধরে বিচার প্রক্রিয়া শুরু না হওয়া এবং অভিযুক্তের অধিকারের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

যদিও জামিন পেলেও সম্পূর্ণ স্বাধীনতা পাচ্ছেন না সুদীপ্ত সেন। আদালত তাঁর উপর একাধিক শর্ত আরোপ করেছে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর তদন্তকারী সংস্থার কাছে হাজিরা দেওয়া, দেশ ছাড়তে না পারা সহ নানা বিধিনিষেধ মানতে হবে তাঁকে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী বৃহস্পতিবারই জেল থেকে মুক্তি পেতে পারেন তিনি। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ, সারদা কেলেঙ্কারি শুধু একটি আর্থিক প্রতারণা নয়, বরং তা রাজ্যের রাজনীতি ও প্রশাসনের উপরও গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

১৩ বছর পর সুদীপ্ত সেনের সম্ভাব্য মুক্তি তাই নিছক আইনি ঘটনা নয়, বরং তা নতুন করে বিতর্ক, প্রশ্ন এবং রাজনৈতিক চাপানউতোরের জন্ম দিতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার, জেলমুক্তির পর এই বহুচর্চিত মামলায় পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় এবং বিচার প্রক্রিয়া কত দ্রুত এগোয়।