সরকারি হাসপাতালের (Govt Hospital Food) রোগীদের পাতের ডাল এতদিন যেন মানহীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছিল। কোথাও পাতলা ডাল, কোথাও আবার জলের মতো দুধ এই অভিযোগ বহু বছর ধরেই (West bengal budget) ঘুরে বেড়াচ্ছিল রোগী ও তাঁদের পরিবারের মুখে। মাছের টুকরো বলতে অনেক জায়গায় মিলত মাত্র এক কোয়া, আর পুষ্টিকর খাবারের জায়গায় কখনও মুড়ি-মিষ্টি দিয়েই কাজ সারার অভিযোগও উঠত বিভিন্ন হাসপাতালে। ফলে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের খাবারের মান নিয়ে এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।
গত প্রায় আট বছর ধরে (West bengal budget) এই পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে রোগী পিছু দৈনিক বরাদ্দের সীমাবদ্ধতা। সূত্র অনুযায়ী, এতদিন সরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন একজন রোগীর খাবারের জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ৫৬ টাকা ৬৪ পয়সা। এই সীমিত বাজেটের মধ্যেই তিন বেলার খাবার দিতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই মান বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছিল না বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একাংশের। তবে রোগী ও তাঁদের পরিবারের অভিযোগ ছিল, বাজেট সীমিত হলেও ন্যূনতম পুষ্টির বিষয়টি নিশ্চিত করা উচিত ছিল।
এই দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও (West bengal budget) অনুযোগের অবসান ঘটাতে এবার বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় (West Bengal Assembly) পেশ হল নতুন বাজেট। এবারের বাজেটকে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এই প্রথম বাজেটেই সরকারি হাসপাতালের রোগী পরিষেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি।
বাজেট পেশের পর সাংবাদিক বৈঠকে সরকারি হাসপাতালে রোগীদের খাবারের মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, এতদিন মাত্র ৫৬ টাকার সামান্য বরাদ্দে তিন বেলার খাবার দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না বললেই চলে। তিনি আরও জানান, একবার এসএসকেএম হাসপাতাল (SSKM Hospital) পরিদর্শনের সময় চিকিৎসকেরা তাঁকে রোগীদের খাদ্য ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। চিকিৎসকেরা জানান, দুপুরে একই ধরনের সবজি যেমন কুমড়ো দেওয়া হয়, আবার সন্ধ্যাতেও প্রায় একই ধরনের খাবার পরিবেশন করা হয়, ফলে রোগীদের পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি তখনই চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে জানতে চান, কত টাকা বরাদ্দ হলে রোগীদের জন্য একটি সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা তৈরি করা সম্ভব। চিকিৎসকদের পরামর্শ ছিল, প্রতিদিন অন্তত ১০৪ টাকা বরাদ্দ হলে তিন বেলার মোটামুটি সুষম আহার নিশ্চিত করা যাবে। সেই পরামর্শের ভিত্তিতেই অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করা হয় বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় রোগী পিছু দৈনিক বরাদ্দ ১১০ টাকা করা হবে, যাতে খাবারের মানে বাস্তবিক উন্নতি আনা সম্ভব হয়।
নতুন বাজেট অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের ‘ফুল রাইস ডায়েট’ (Full Rice Diet)-এর দৈনিক বরাদ্দ ৫৬.৬৪ টাকা থেকে একলাফে বাড়িয়ে ১১০ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে হাসপাতালগুলিতে রোগীদের খাবারের মানে বড় পরিবর্তন আসবে। শুধু পরিমাণ নয়, বরং পুষ্টিগুণ ও বৈচিত্র্যও বাড়ানো সম্ভব হবে।


