ময়না, পূর্ব মেদিনীপুর: কমিশনের ‘শান্তির ভোটে’ অশান্তির ছায়া! বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফার ভোট শেষ হওয়ার পরই ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েতের আড়ংকিয়ারানা এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ওই কেন্দ্রের ২৪১ নম্বর বুথ থেকে ইভিএম বের করার সময় তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
তৃণমূলের অভিযোগ
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, ভোট শেষ হওয়ার পর ইভিএম নিয়ে বেরোনোর সময় তাদের পোলিং এজেন্টসহ ১০ জন কর্মীকে বিজেপি কর্মীরা মারধর করে। একজনের কান ছিঁড়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। আহতদের ময়না প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তৃণমূলের তরফে সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিজেপির পাল্টা দাবি
বিজেপির তরফে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে যে তৃণমূল কর্মীরা ঘটনাস্থলের কাছে এক বিজেপি নেতার বাড়িতে চড়াও হয় এবং বাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তমলুক সাংগঠনিক জেলার বিজেপি যুব মোর্চার জেলা সম্পাদক সৌমেন ধাড়া জানিয়েছেন, এই ঘটনার জেরে তাঁর মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকেও ময়না প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উত্তেজনা
ভোট শেষ হওয়ার পরপরই এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুই দলের কর্মী-সমর্থকরা মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ায় পুলিশ বড় শক্তি মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরেও দুই পক্ষের লোকজন জড়ো হয়ে পড়ায় সেখানেও উত্তেজনা দেখা যায়।
পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনো পক্ষের অভিযোগই আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে কি না তা স্পষ্ট নয়। তবে দুই পক্ষের আহতদের চিকিৎসা চলছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করছে।
ময়না বিধানসভা কেন্দ্রটি পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় অবস্থিত এবং ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকা। ভোটের দিনই এ ধরনের সংঘর্ষ ঘটায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুসারে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
দুই দলই পরস্পরকে দোষারোপ করছে। তৃণমূল বলছে বিজেপি হামলা চালিয়েছে, অন্যদিকে বিজেপি বলছে তৃণমূল প্রথমে তাদের বাড়িতে হামলা করেছে। পুলিশের তদন্তে সত্য কী বেরিয়ে আসে, সেদিকে সবার নজর রয়েছে।




















