কলকাতা: মালদার কালিয়াচকে SIR র দায়িত্বপ্রাপ্ত সাতজন বিচারককে (Mofakkarul Islam) প্রায় আট-নয় ঘণ্টা রেখেছিল জনতা। ঘটনায় উস্কানি দেওয়া মূলচক্রী মোফাক্কেরুল ইসলামকে শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের সিআইডি। পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় তাকে আটক করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তিনি ফোন বন্ধ করে লুকিয়ে ছিলেন।
তবে মোফাক্কেরুল গ্রেফতার হতেই নতুন করে বিতর্ক তৈরী হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ছবিতে তাকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যাচ্ছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে শমীক ভট্টাচার্য প্রত্যেকেই এই ছবি সমাজ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। এই ছবিতে মমতার পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে মোফাক্কেরুলকে মুখ্যমন্ত্রীর Z+ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেও এই ধরণের সন্ত্রাসবাদী এলিমেন্ট কিভাবে ঘনিষ্ঠ অ্যাক্সেস পেল তা নিয়েই সরব হয়েছে বঙ্গ বিজেপির নেতারা।
আরও দেখুনঃ হনুমানজিকে না মানলে ভারত ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ যোগীর
আজ রায়গঞ্জের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বিজেপিকে নিশানা করে বলেছেন মোফাক্কেরুল মহারাষ্ট্র থেকে এসেছে বিজেপির এজেন্ডা নিয়ে। তবে তদন্ত সে কথা বলছে না। তদন্ত বলছে মোফাক্কেরুল উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের বাসিন্দা এবং এর আগেও মুর্শিদাবাদের সাম্প্রদায়িক হিংসায় সে উস্কানি দিয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারী তার এক্স হ্যান্ডেলে স্পষ্ট বলেছেন যে মোফাক্কেরুল তৃণমূলের লোক এবং এই দাঙ্গার সম্পূর্ণ দায়ভার তৃণমূলের।
বুধবার (১ এপ্রিল) কালিয়াচক-২ ব্লকের ডেভেলপমেন্ট অফিসে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কাজ করতে যাওয়া সাতজন বিচারককে স্থানীয় বিক্ষোভকারীরা ঘিরে রাখেন। ভিড় উত্তেজিত হয়ে পাথর ছোড়ে, পুলিশের গাড়িতে আঘাত করে। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের হস্তক্ষেপে বিচারকদের উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছায় এবং আদালত রাজ্য সরকারের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। এনআইএ এখন তদন্ত শুরু করেছে এবং এখন পর্যন্ত ৩৫ জনের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এখন দেখার NIA তদন্তে কি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। তাহলেই বোঝা যাবে আদৌ বিজেপির অভিযোগ সত্যি কি না।



















