তফসিলিদের উপর অত্যাচার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া প্রসঙ্গে বিজেপিকে নিশানা অভিষেকের

বাঁকুড়া: শুক্রবার বাঁকুড়া জেলার সোনামুখীতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) নির্বাচনী জনসভায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপির নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি…

South 24 Parganas: The Starting Point for Election Campaign, Abhishek Explains

বাঁকুড়া: শুক্রবার বাঁকুড়া জেলার সোনামুখীতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) নির্বাচনী জনসভায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপির নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “তফসিলিদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অত্যাচার হচ্ছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে। দেশের মধ্যে এই বিষয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, দ্বিতীয় রাজস্থান, এবং তৃতীয় মধ্যপ্রদেশ। অত্যাচারে গোল্ড, সিলভার ও ব্রোঞ্জ সবই বিজেপির প্রাপ্য।”

এদিনের সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রান্নার গ্যাস, জ্বালানি, চা, দুধ, শাকসবজি, কেরোসিন এবং রেল টিকিটসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বিজেপি সরকার আসার আগে রান্নার গ্যাসের দাম ছিল ৪০০ টাকা, আজ তা হাজার-বারোশো টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেট্রোল ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা, ডিজেল ৯০ টাকার বেশি।” তিনি স্পষ্ট করেন, একদিকে কেন্দ্র সাধারণ মানুষের পকেট কেটে দিচ্ছে, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লক্ষ্মীর ভান্ডারের মাধ্যমে সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

   

অভিষেক এই জনসভায় তৃণমূল সরকারের ‘১০ প্রতিজ্ঞা’ তুলে ধরেন এবং পাঁচটি মূল প্রতিশ্রুতি মানুষের সামনে পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, তৃণমূল সরকারের অধীনে রাজ্যের মহিলারা আজীবন লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা পাবেন। এছাড়াও আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি বাড়িতে নলবাহিত পরিশ্রুত পানীয় জল, ব্লকে ব্লকে ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য শিবির’, ৬ মাসের মধ্যে বার্ধক্য ভাতা সরাসরি ব্যাঙ্কে প্রদান এবং গরিবদের জন্য পাকা ছাদের ব্যবস্থা করা হবে।

সোনামুখী ও ইন্দাস বিধানসভায় ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষ বাড়ি পেয়েছেন। সোনামুখীতে ৭৬ হাজার মহিলা এবং ইন্দাসে ৮০ হাজার মহিলা লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা পাচ্ছেন। কৃষকদের সুবিধার্থে বাঁকুড়া জেলায় ২-৩টি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের কথাও ঘোষণা করেন অভিষেক।

তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ করেন, গত ১০ বছরে নোটবন্দি, এনআরসি, আধার ও লকডাউনের নামে মানুষকে লাইনে দাঁড় করানো হয়েছে। তবে তিনি রাজ্যবাসীকে উৎসাহিত করে বলেন, “২৩ তারিখ রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে লাইনে দাঁড়ান এবং ইভিএমে জোড়াফুলের বোতাম টিপে বিজেপিকে জবাব দিন। ভোটের বাক্স খোলার পর চারদিকে শুধু জোড়াফুল দেখা যাবে।”