আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালী বাগের গাড়িতে হামলা

Mitali Bag-এর গাড়িতে প্রচারের সময় হামলা। পাথর ও লাঠিতে ভাঙচুর, আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে সাংসদকে।

By Sudipta Biswas

Published:

Updated:

Follow Us

হুগলির গোঘাট এলাকায় প্রচার চলাকালীন মিতালী বাগের গাড়িতে বড় পাথর এবং লাঠি দিয়ে দিয়ে হামলা চালান হয় বলে জানা গিয়েছে(Mitali Bag) এবং গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করা হয়। হামলার জেরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কাঁচের টুকরো ফুটে যায়। তাকে আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।ঘটনায় অভিযোগের তীর বিজেপির দিকে গেলে বিজেপি এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এই ঘটনা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলে দাবি করেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গোঘাট এলাকায় প্রচার কর্মসূচির সময় আচমকাই সাংসদের গাড়িকে লক্ষ্য করে বড় পাথর ও লাঠি নিয়ে হামলা চালানো হয়। মুহূর্তের মধ্যে গাড়ির কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। গাড়ির ভিতরে থাকা সাংসদ ও তাঁর সহযাত্রীরা হঠাৎ এই আক্রমণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাটি ছিল আকস্মিক হলেও তা পরিকল্পিত বলেই মনে হচ্ছে, কারণ একাধিক ব্যক্তি একসঙ্গে আক্রমণে অংশ নেয়।

   

আরও দেখুনঃ জগদ্দলের সভা থেকে পরিবর্তনের ডাক মোদীর

এই হামলার জেরে গুরুতরভাবে আহত হন মিতালী। ভাঙা কাঁচের টুকরো তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে ঢুকে যায় এবং তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল হলেও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ঘটনার পরেই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে ওঠে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। সাংসদ নিজেও অভিযোগ করে বলেছেন, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলা। পাশাপাশি তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তুলেছেন এবং দাবি করেছেন, ভোটের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিশন ব্যর্থ হয়েছে।

অন্যদিকে বিজেপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। পুরশুড়ার বিজেপি প্রার্থী বিমান ঘোষ দাবি করেছেন, এই ঘটনাটি আসলে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল এবং পুরো বিষয়টি একটি ‘নাটক’। তাঁর অভিযোগ, উল্টে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় তাঁদের প্রার্থী প্রশান্ত দিগারসহ প্রায় ৫০ জন কর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।

এই ঘটনার জেরে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচনের সময় এমন সহিংসতা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, রাজনৈতিক সংঘর্ষের কারণে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে এবং তাঁরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে চান।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রথম নয় যে মিতালী হামলার শিকার হলেন। এর আগেও ২০২৪ সালের মে মাসে লোকসভা নির্বাচনের সময় খানাকুলে তাঁর গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল। ফলে বারবার এই ধরনের ঘটনা সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক হিংসা কি ক্রমশ স্বাভাবিক হয়ে উঠছে?

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.