কলকাতা: বিধানসভার ভোটের মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার উত্তর কাশীপুর থানা এলাকায় শত-সমান বোমা উদ্ধার মামলায় নয়া মোড়। নির্বাচনী আবহে এই ঘটনার তদন্তভার জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)-কে মামলা হস্তান্তর করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। উত্তর কাশীপুর থানা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে ৭৯টি ক্রুড বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনাকে বেশ গুরুত্ব সহকারে দেখছে নয়াদিল্লি। রাজনৈতিক মহলের মতে, তবে কি এই ঘটনার সঙ্গে কোনও জঙ্গিযোগের শঙ্কা করছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক?
সরকারি আদেশের বিবরণ
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সিটিসিআর ডিভিশনের আদেশপত্রে (F.No. 11011/39/2026-NIA) বলা হয়েছে:
• ২৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে উত্তর কাশীপুর থানায় একটি এফআইআর দায়ের হয় (FIR No. 62/26)।
• ধারা: ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) ২০২৩-এর সেকশন ২৮৮ এবং বিস্ফোরক পদার্থ আইন ১৯০৮-এর সেকশন ৪।
• উদ্ধারকৃত বস্তু: জুটের দড়ি দিয়ে বাঁধা ৭৯টি গোলাকার বস্তু, যা ক্রুড বোমার মতো দেখতে।
• স্থান: মাজেরহাট (পইলেপাড়া) গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়ি, যা একটি কবরস্থানের কাছে অবস্থিত।
কেন্দ্রীয় সরকার মনে করছে, এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি বড় ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। তাই ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) আইনের অধীনে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে।
আরও পড়ুন: ফের ভাঙড়ে উদ্ধার ১০০ বোমা! রাডারে মমতার ‘বোমা বাধার কারিগর’
আদেশপত্রের মূল কথা
আদেশে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে বিস্ফোরক ও ক্রুড বোমা মজুত করে জনজীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং এর পেছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। জাতীয় নিরাপত্তার দিক বিবেচনা করে এনআইএ-কে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে।
আদেশটি স্বাক্ষর করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আন্ডার সেক্রেটারি শ্রী মৃত্যুঞ্জয় অতিবুদ্ধি। আদেশটি এনআইএ ডিরেক্টর জেনারেল, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব এবং ডিজিপি-কে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিস্ফোরক মমতা! কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ইভিএম দখলের অভিযোগ
রাজনৈতিক তাৎপর্য
নির্বাচনের মধ্যে এ ধরনের বিস্ফোরক উদ্ধার এবং মামলা এনআইএ-র হাতে যাওয়া রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এনআইএ এখন পুরো ঘটনার বৃহত্তর ষড়যন্ত্র, অর্থের উৎস এবং জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু করবে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে আরও তল্লাশি চলছে।




















