কোচবিহারের শীতলকুচিতে সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের (Minakashi Mukherjee) গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ এবং হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার বেলা প্রায় সাড়ে ১১টা নাগাদ শীতলকুচি থানার সামনে। সিপিএমের অভিযোগ, দলের রাজ্য নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের গাড়ি লক্ষ্য করে বিক্ষোভ দেখানো হয় এবং হামলার চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনার জন্য বিজেপিকে দায়ী করেছে সিপিএম। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।
জানা গিয়েছে, দিন দুয়েক আগে শীতলকুচি এলাকার বাসিন্দা মন্টু মিয়াঁর দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মন্টু মিয়াঁ সিপিএম কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছিল। মৃতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে এবং তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিতেই মঙ্গলবার শীতলকুচিতে যান সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।
সকালে তিনি প্রথমে মন্টু মিয়াঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁদের সমবেদনা জানান। পাশাপাশি পরিবারের অভিযোগ এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন। এরপর শীতলকুচি থানায় গিয়ে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। সেই সময় থানার সামনে(Minakashi Mukherjee) একদল বিক্ষোভকারী জড়ো হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সিপিএমের দাবি, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের(Minakashi Mukherjee) গাড়ি ঘিরে স্লোগান দিতে শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। অভিযোগ, গাড়ি লক্ষ্য করে ধাক্কাধাক্কি করা হয় এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের গাড়িকে দ্রুত এলাকা থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে। ঘটনার পর মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাঁকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই বিক্ষোভ সংগঠিত করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, একজন মৃত রাজনৈতিক কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়াও যদি বাধার মুখে পড়ে, তবে তা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তিনি দাবি করেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের কণ্ঠস্বর রুখে দিতেই এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, সিপিএম নেতৃত্বের অভিযোগ, (Minakashi Mukherjee) পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। তাঁদের দাবি, বিজেপি সমর্থিত কিছু ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বিক্ষোভ দেখিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন। এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলেছে বাম নেতৃত্ব।
তবে সিপিএমের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, তাঁদের দলের কোনও কর্মী বা সমর্থক এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তাঁদের বক্তব্য, সিপিএম রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে এবং ঘটনাকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিজেপির দাবি, এলাকার মানুষ বিভিন্ন ইস্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করতেই সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।





