গোসাবা: লোকসভা নির্বাচনের আবহে ফের রক্ত ঝরল দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। এবার ঘটনাস্থল গোসাবা। গতকাল রাতে শম্ভুনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভূপেন্দ্রপুর এলাকায় এক সক্রিয় তৃণমূল কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন দিব্যেন্দু গায়েন নামে এক তৃণমূল কর্মী। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই ৩ জন বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে গোসাবা থানার পুলিশ।
কী ঘটেছিল সেই রাতে?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, আগামী ২১ এপ্রিল তৃণমূলের একটি রাজনৈতিক সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সভার প্রস্তুতি নিয়ে দলীয় বৈঠক সেরে গতকাল রাতে বাড়ি ফিরছিলেন দিব্যেন্দু গায়েন এবং তৃণমূলের বুথ সভাপতি পলাশ মণ্ডল। পলাশ বাইক চালাচ্ছিলেন এবং পিছনে বসেছিলেন দিব্যেন্দু। অভিযোগ, ভূপেন্দ্রপুর এলাকায় ৪-৫ জন দুষ্কৃতী বাইক থামিয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হয় এবং দিব্যেন্দুকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একটি গুলি দিব্যেন্দুর ডান পায়ে লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি তাঁকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
বিজেপি-তৃণমূল তরজা Shootout at Gosaba
আক্রান্ত তৃণমূল কর্মী ও বুথ সভাপতির সরাসরি অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের দিকে। পলাশ মণ্ডলের দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে ভোলা প্রামাণিক নামে এক বিজেপি কর্মীকে তিনি চিনতে পেরেছেন। তৃণমূলের সাফ কথা, “এলাকায় মাটি হারিয়ে বিজেপি এখন খুনের রাজনীতি শুরু করেছে।”
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের পাল্টা দাবি, এটি তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। হারের আতঙ্কে তৃণমূল নিজেরা নিজেদের ওপর হামলা চালিয়ে বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপাতে চাইছে। সঠিক তদন্ত হলে তৃণমূলেরই আসল মুখ বেরিয়ে পড়বে বলে দাবি বিজেপির।
আপাতত এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। ধৃত ৩ জনকে জেরা করে বাকি দুষ্কৃতীদের হদিস পাওয়ার চেষ্টা করছে গোসাবা থানার পুলিশ।




















