শিবপুরে শালিমার কয়লা ডিপোয় অবৈধ দোকান-হকার উচ্ছদে বুলডোজার অ্যাকশন

হাওড়া: শিবপুরে প্রশাসনের বড়সড় উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। (Shalimar)শালিমার কয়লা ডিপো সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একাধিক বেআইনি দোকান,…

shalimar-coal-depot-bulldozer-action

হাওড়া: শিবপুরে প্রশাসনের বড়সড় উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। (Shalimar)শালিমার কয়লা ডিপো সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একাধিক বেআইনি দোকান, অস্থায়ী কাঠামো এবং দখলদারি উচ্ছেদ করতে বুলডোজার নামায় প্রশাসন। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই অভিযানে রাস্তার দু’পাশে থাকা বহু অননুমোদিত নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের দাবি, সরকারি জমি পুনরুদ্ধার এবং এলাকার পরিকাঠামোগত উন্নয়নের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

   

জানা গিয়েছে, শিবপুর থানার অন্তর্গত শালিমার কয়লা ডিপো এলাকার ফোরশোর রোড সংলগ্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক দোকান, গুদামঘর ও অস্থায়ী কাঠামো তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, এগুলির অধিকাংশই গড়ে উঠেছিল শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্ট ট্রাস্টের জমির উপর এবং সেগুলির কোনও বৈধ অনুমোদন ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওই দখলদারি আরও বাড়তে থাকে, যার ফলে এলাকায় রাস্তা সম্প্রসারণ এবং জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নের কাজ কার্যত বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।

আরও দেখুনঃ চিন্তায় বিজ্ঞানীরা, পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি কমিয়ে দিচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই অঞ্চলে বর্তমানে রাস্তা চওড়া করা এবং একটি বড় হাই ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্ষাকালে জল জমে যাওয়ার সমস্যা দূর করতে এই প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু রাস্তার দু’ধারে গজিয়ে ওঠা অবৈধ দোকান ও নির্মাণের কারণে কাজ এগোচ্ছিল না। বহুবার সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শুক্রবার সকালেই বন্দর কর্তৃপক্ষের আধিকারিকরা, শিবপুর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী এবং প্রশাসনের অন্যান্য প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেজন্য আগে থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এরপর দুটি বুলডোজার বা আর্থমুভার ব্যবহার করে একে একে বেআইনি দোকান ও কাঠামোগুলি ভাঙা শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাস্তার দুই পাশের অধিকাংশ অননুমোদিত নির্মাণ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযান চলাকালীন কিছু ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা অসন্তোষ প্রকাশ করলেও বড় ধরনের কোনও অশান্তির খবর পাওয়া যায়নি। অনেকের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই দোকানগুলির মাধ্যমে তাঁদের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছিল। ফলে হঠাৎ করে উচ্ছেদ হওয়ায় তাঁরা সমস্যার মুখে পড়েছেন। তবে প্রশাসনের বক্তব্য, আইন মেনেই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পূর্বেই সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

বন্দর কর্তৃপক্ষের এক আধিকারিক জানান, সরকারি জমি দখল করে বেআইনি নির্মাণ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। শহর ও শহরতলির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জমি মুক্ত করা জরুরি। সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজনে একই ধরনের অভিযান চালানো হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলেও এই উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, সরকারি জমি পুনরুদ্ধার এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্ব পাওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেছেন অনেকেই।