শিলিগুড়ি পুরনিগমে বড় রদবদল, মেয়র পারিষদ হলেন সঞ্জয় পাঠক

বোর্ডের মেয়াদ শেষের আগেই প্রশাসনিক পরিবর্তন। দিলীপ বর্মনের বদলে মেয়র পারিষদ পদে শপথ নিলেন সঞ্জয় পাঠক।

sanjay-pathak-sworn-in-as-mayor-council-member-siliguri-municipal-corporation

পারমিতা রায়, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি (Siliguri) পুরনিগমের বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ শেষ হতে এখনও প্রায় আট মাস বাকি। তার আগেই পুরনিগমে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক রদবদল ঘটল। মেয়র পারিষদ পদ থেকে দিলীপ বর্মনকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় নবনিযুক্ত করা হল সঞ্জয় পাঠককে (Sanjay Pathak)। মঙ্গলবার শিলিগুড়ি পুরনিগমে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন সঞ্জয় পাঠক। শপথবাক্য পাঠের মাধ্যমে তিনি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব

নতুন দায়িত্বে সঞ্জয় পাঠকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে পুরনিগমের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। এর মধ্যে রয়েছে ক্রীড়া, ‘হাউসিং ফর অল’ প্রকল্প এবং ট্রেড লাইসেন্স বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

   

পুরনিগম সূত্রে খবর, আগামী দিনে এই বিভাগগুলির কাজের গতি বাড়ানো এবং পরিষেবা আরও উন্নত করার দিকেই বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

দীর্ঘদিনের মতবিরোধের জল্পনা

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দিলীপ বর্মনের সঙ্গে বর্তমান বোর্ড এবং মেয়র Gautam Deb-এর দীর্ঘদিনের মতবিরোধ ছিল। বিভিন্ন বোর্ড মিটিংয়ে সেই মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে বলেও দাবি করা হয়।

একাধিকবার বোর্ড মিটিং চলাকালীন দিলীপ বর্মনকে সভাকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যেই তিনি নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কখনও কখনও কড়া ভাষায় বোর্ডের সমালোচনাও করেছেন বলে জানা যায়।

এই পরিস্থিতিতে তাঁকে সরিয়ে সঞ্জয় পাঠককে ওই পদে আনা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে পুরনিগমের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

নতুন দায়িত্বে আশাবাদী সঞ্জয়

মেয়র পারিষদ হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সঞ্জয় পাঠক জানান, নতুন দায়িত্ব পেয়ে তিনি অত্যন্ত খুশি। মানুষের স্বার্থে এবং পুরনিগমের উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন বলে আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, “আমার উপর যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করব। সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে দূরে সরিয়ে সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।”

শিলিগুড়ি পুরনিগমে এই রদবদলের ফলে আগামী দিনে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব পড়ে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।