উত্তরাখণ্ডে অপারেশন ‘কালনেমি!’ পুলিশের হাতে জাল সাধু বেশে ওয়াসিম, আকবর-শাকিল

উত্তরাখন্ড: দেবভূমি উত্তরাখণ্ডে ধর্মীয় বিশ্বাসের পবিত্রতা রক্ষায় চলছে অভিযান। (Operation Kalnemi)মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামীর নির্দেশে চালু হওয়া ‘অপারেশন কালনেমির’ অংশ হিসেবে রুরকি পুলিশ এক অভিযানে…

operation-kalnemi-uttarakhand

উত্তরাখন্ড: দেবভূমি উত্তরাখণ্ডে ধর্মীয় বিশ্বাসের পবিত্রতা রক্ষায় চলছে অভিযান। (Operation Kalnemi)মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামীর নির্দেশে চালু হওয়া ‘অপারেশন কালনেমির’ অংশ হিসেবে রুরকি পুলিশ এক অভিযানে ৪০ জন জাল সাধুকে আটক করেছে। এঁরা হিন্দু সাধু-বাবার বেশ ধরে ভক্তদের বিভ্রান্ত করছিলেন বলে অভিযোগ। আটককৃতদের মধ্যে আকবর, ওয়াসিম, শাকিলসহ বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তাঁদের বাংলাদেশি ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পিরান কলিয়ার এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি গেরুয়া কাপড়, রুদ্রাক্ষের মালা, ভস্ম মেখে সাধু সেজে ভক্তদের কাছে ঘুরে ঘুরে টাকা আদায়, অলৌকিক ক্ষমতার দাবি ও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে প্রতারিত করছিলেন। অনেক ভক্ত অভিযোগ করেছেন, এঁরা ধর্মের নামে মানসিক শান্তি ও আধ্যাত্মিকতার ছলনা করে অর্থ উপার্জন করতেন।

   

আরও দেখুনঃ শিলিগুড়ি পুরনিগমে বড় রদবদল, মেয়র পারিষদ হলেন সঞ্জয় পাঠক

কেউ কেউ মহিলা ভক্তদের সঙ্গেও অস্বাভাবিক আচরণ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।অপারেশন কালনেমির নামকরণ হয়েছে হিন্দু পুরাণের সেই দানব কালনেমির নামানুসারে, যিনি সাধুর ছদ্মবেশে মানুষকে বিভ্রান্ত করতেন। উত্তরাখণ্ড পুলিশ এই অভিযানের মাধ্যমে চারধাম যাত্রা ও কাওয়ড় যাত্রার সময় ধর্মীয় স্থানগুলোতে জালিয়াতি বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর। রুরকির এই অভিযানে আটক ৪০ জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

তাঁদের পরিচয় যাচাই, আঙুলের ছাপ ও অন্যান্য ডকুমেন্ট চেক করা হচ্ছে।স্থানীয়রা এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। একজন ভক্ত বলেন, “আমরা সত্যিকারের সাধু-সন্তদের শ্রদ্ধা করি। কিন্তু যারা ছদ্মবেশে ধর্মের ব্যবসা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” হরিদ্বার ও রুরকির মতো পবিত্র এলাকায় এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। হিন্দু সংগঠনগুলোও পুলিশের প্রশংসা করে বলেছে, ধর্মীয় স্থানগুলোকে প্রতারকমুক্ত করতে এই অভিযান অত্যন্ত জরুরি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজনের কাছ থেকে সন্দেহজনক মোবাইল, নগদ টাকা ও বিভিন্ন ধরনের ওষুধ উদ্ধার হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, কেউ কেউ দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাখণ্ডে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। বিশেষ করে আকবর, ওয়াসিম ও শাকিল নামের তিনজনের পরিচয় যাচাইয়ে বাংলাদেশি যোগসূত্র মিলেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি অনুপ্রবেশের প্রমাণ মেলে, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে বিদেশি আইনেও মামলা হতে পারে