ময়নাগুড়ি: জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়িতে (Maynaguri)জাতীয় সড়ক ২৭-এ ভয়ানক বাস-লরি সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় ২৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার সকালের এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি যাত্রী নিয়ে চলছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা লরির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
প্রচণ্ড জোরে ধাক্কায় বাসটি উল্টে যায় এবং লরিটিও রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ময়নাগুড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, মোট ৩২ জনকে ভর্তি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৭ জন নারী ও ১৫ জন পুরুষ। কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ সোমে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারে প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট! বাড়বে ১২% ডিএ? জোর জল্পনা
বিজেপি সাংসদ ডা. জয়ন্ত কুমার রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, “আজ জলপাইগুড়িতে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। ৩২ জন আহতকে এই হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। কয়েকজন রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী সবরকম সাহায্যের নির্দেশ দিয়েছেন। ডিআইজি ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে এসেছেন।
তদন্ত চলছে।”দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় মানুষ হাসপাতালের সামনে ভিড় করেন। অনেকের আত্মীয়-স্বজন এখনও খোঁজ পাননি। এক আহত যাত্রীর স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “সকালে অফিস যাচ্ছিল। ফোন করে বলল, একটু পরে কথা বলব। তারপর থেকে আর যোগাযোগ নেই। এখন শুনছি সে আহত। কী হবে আমাদের?” এনএইচ-২৭ উত্তরবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।
প্রতিদিন এই পথে ভারী যানবাহন ও যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা সড়কের খারাপ অবস্থা ও দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ে অভিযোগ করে আসছিলেন। অনেকে মনে করছেন, চালকের অসাবধানতা ও অতিরিক্ত গতিই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ। পুলিশ জানিয়েছে, দুই চালককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ময়নাগুড়ি হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সদের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। আহতদের জন্য রক্তের প্রয়োজন দেখা দিলে স্থানীয়রা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রক্তদান করতে এগিয়ে এসেছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে এবং আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব সরকার নেবে।



