পারমিতা রায়, উত্তরবঙ্গ ব্যুরো: রাত পোহালেই জামাই ষষ্ঠী (Jamai Sasthi)। তবে এবার একটু ব্যতিক্রম। সাধারণত জ্যৈষ্ঠ মাসে পালিত হলেও এ বছর ষষ্ঠীপুজো পড়েছে আষাঢ় মাসে। তার প্রভাব পড়েছে বাজারেও। অন্যান্য বছরের তুলনায় ডালা, কুলো ও পাখার বাজারে কিছুটা মন্দাভাব দেখা গেলেও পুজোর উপকরণ কিনতে মানুষের উৎসাহে কোনও ভাটা পড়েনি।
শুক্রবার সকাল থেকেই মালদার গাজোলের হাটে পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে বাড়তে থাকে ক্রেতাদের ভিড়। বিশেষ করে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ কিনছেন তালপাতার পাখা, কেউ বা বাঁশের তৈরি নানান ধরনের হাতপাখা, ডালা ও কুলো। ষষ্ঠীপুজোর জন্য এই সামগ্রীগুলির চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।
Also Read | গরুর গাড়ি নিয়ে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ, শিলিগুড়িতে উত্তেজনা যুব কংগ্রেসের
রাঙাভিটা এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণা গোস্বামী জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও পরিবারের সন্তান-সন্ততিদের মঙ্গল কামনায় তিনি ষষ্ঠীপুজো করবেন। তিনি বলেন, “পুজোর জন্য ডালা, কুলো আর পাখা তো লাগবেই। শনিবার পুজো, তাই আজই হাটে এসে সব কিনে নিচ্ছি। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর দাম অনেকটাই বেড়েছে।”
একই অভিযোগ তুলসীডাঙ্গার বাসিন্দা নমিতা সাহারও। তাঁর কথায়, “ডালা, কুলো ও পাখার একটি সেট কিনতে এবার ২৪০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। দাম অনেক বেড়েছে, কিন্তু পুজো তো করতেই হবে। তাই বাধ্য হয়েই কিনতে হচ্ছে।”
Also Read | রাজগঞ্জে তৈরি হোল্ডিং সেন্টারে ২৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক, তুঙ্গে নিরাপত্তা ও নজরদারি
অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরাও বাজারের পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা হতাশ। বিক্রেতা কার্তিক চন্দ্র দাস জানান, “সাধারণত জ্যৈষ্ঠ মাসে ষষ্ঠীপুজো হলে চাহিদা বেশি থাকে। এবার আষাঢ় মাসে পড়ায় বিক্রি কিছুটা কমেছে। তার উপর বাঁশ, তালপাতা-সহ সব কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচও বেড়েছে। তবুও মানুষ পুজোর সামগ্রী কিনছেন।”
বাজারে মন্দাভাব এবং মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ থাকলেও বাঙালির চিরাচরিত আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি টান যে এখনও অটুট, গাজোলের হাটের চিত্র যেন সেই কথাই আরও একবার প্রমাণ করল। জামাই ষষ্ঠীকে ঘিরে এখন মালদার বাজারে উৎসবের আমেজ স্পষ্ট।



