উত্তরাখন্ডকে স্বাগত জানিয়ে বঙ্গেও মাদ্রাসা বোর্ড বন্ধের ইঙ্গিত নিশীথের

কলকাতা: উত্তরাখণ্ড সরকার মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্ত (Nisith Pramanik)করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে…

nisith-pramanik-madrasa-board

কলকাতা: উত্তরাখণ্ড সরকার মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্ত (Nisith Pramanik)করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই ধরনের সাহসী সিদ্ধান্ত শুধু উত্তরাখণ্ডেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।

নিশীথের এই মন্তব্যেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত শুধু উত্তরাখন্ড নয় এই মাদ্রাসা বন্ধ অভিযান চলতে পারে বাংলার বুকেও। কোচবিহারে এক অনুষ্ঠানে নিশীথ প্রামাণিক বলেন, “উত্তরাখণ্ড সরকার যে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। এই ধরনের বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত সব জায়গায় হবে।” তাঁর এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আরও দেখুনঃ স্কুলে প্রথম শ্রেণির ছাত্রকে যৌন নির্যাতন, প্রিন্সিপালের অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ

দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে মনে করেন, এই বোর্ডের অধীনে চলা অনেক প্রতিষ্ঠানে আধুনিক শিক্ষার পরিবর্তে শুধুমাত্র ধর্মীয় শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়, যা ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর।পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে শতাধিক মাদ্রাসা চলে। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান সরকারি অনুদান পায় এবং নিয়মিত পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে।

কিন্তু অনেক ছোট মাদ্রাসায় আধুনিক বিষয় যেমন বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি বা কম্পিউটার শিক্ষার সুযোগ খুবই সীমিত। সমালোচকরা বলেন, এতে করে একটা বড় অংশের যুবসমাজ মূলধারার শিক্ষা ও কর্মসংস্থান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। নিশীথ প্রামাণিকের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সমন্বিত করার জন্য এই ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।উত্তরাখণ্ডের সিদ্ধান্তের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই বিষয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে।

আরও দেখুনঃ বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়েতে খুন রাজা দত্ত, পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি দুষ্কৃতীদের

সেখানকার সরকার জানিয়েছে, মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্ত করে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মাদ্রাসাগুলিকে আনা হবে। এতে ছাত্ররা নিয়মিত স্কুলের মতো পড়াশোনা করতে পারবে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সুযোগ পাবে। পশ্চিমবঙ্গেও অনুরূপ চিন্তাভাবনা চলছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, শিক্ষাকে ধর্মনিরপেক্ষ ও আধুনিক করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ।

তবে বিরোধীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা বলছেন, এটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষা অধিকারে হস্তক্ষেপ। তাঁরা মনে করেন, মাদ্রাসা বোর্ড বহু বছর ধরে চলে আসছে এবং এর মাধ্যমে অনেক দরিদ্র মুসলিম পরিবারের সন্তান শিক্ষার আলো দেখেছে। কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। সংখ্যালঘু সংগঠনগুলিও এই ইঙ্গিতের বিরোধিতা করে বলেছে, শিক্ষা ব্যবস্থায় উন্নয়ন করতে গেলে সংলাপের পথে এগোতে হবে, একতরফা সিদ্ধান্ত নয়।

আরও দেখুনঃ বারুইপুর-কাণ্ডে ইন্ধনে অভিযোগ! গ্রেফতার সিপিএম নেতা লাহেক আলি