দিঘা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দকুমার থেকে দিঘা ডবল লাইন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন (nandakumar)। তিনি জানিয়েছেন জানিয়েছেন, রেলওয়ে বোর্ড ইতিমধ্যেই অনুমোদন দিয়েছে এবং রেলমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও কনফারেন্সও সম্পন্ন হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নন্দকুমার থেকে দিঘা পর্যন্ত ডাবল রেললাইনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করতে হবে।
রেলওয়ে বোর্ড বারবার এই জমির জন্য অনুরোধ করছে। আসলে দিঘা থেকে বন্দে ভারত ট্রেন চালাতে হলে ডাবল লাইন অত্যন্ত জরুরি। আট বছর ধরে তারা জমি চেয়ে আসছে, কিন্তু আগের সরকার তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।” তিনি আরও জানান, নন্দীগ্রাম রেল প্রকল্পের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই ৭৪ একর জমি হাতে এসেছে এবং সেখানে কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। বাকি ছয় একর জমির বিষয়টিও দ্রুত সমাধানের পথে রয়েছে।
আরও দেখুনঃ https://kolkata24x7.in/politics/tmc-20-rebel-mps-join-ncpi-kunal-ghosh-slams-nda-support/
তবে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে নন্দকুমার-দিঘা ডাবল লাইন প্রকল্পকে। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টভাবে বলেন, “ডাবল লাইন না হলে এখান থেকে বন্দে ভারত ট্রেন চালানো সম্ভব নয়। দেশের অন্যান্য সমুদ্রতীরবর্তী শহরগুলো দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। শুধু দিঘা এখনও ব্যতিক্রম হয়ে রয়েছে, আর সেটা পুরোপুরি আগের সরকারের নেতিবাচক মনোভাবের কারণে।”
এই ঘোষণায় দিঘা সহ দক্ষিণবঙ্গের মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দিঘা থেকে আধুনিক ট্রেন পরিষেবার দাবি উঠছিল। বন্দে ভারতের মতো অত্যাধুনিক ট্রেন চালু হলে পর্যটন শিল্পে ব্যাপক উন্নতি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। দিঘা কেবল পশ্চিমবঙ্গের নয়, পূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে এতদিন এর সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। রেলওয়ে বোর্ডের অনুমোদন পাওয়ার পর এখন জমি অধিগ্রহণই মূল চ্যালেঞ্জ।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, প্রশাসনিক স্তরে সব ধরনের সমন্বয় চলছে। জেলা প্রশাসন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আগের সরকারের আমলে যে জমি সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছিল, নতুন সরকার তা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে বদ্ধপরিকর। নন্দীগ্রাম প্রকল্পের অগ্রগতির খবরও উৎসাহব্যঞ্জক। ৭৪ একর জমিতে কাজ শেষ হওয়ায় বাকি ছয় একর নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এই প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণ হলে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা আমূল বদলে যাবে।
শিল্প, বাণিজ্য ও পর্যটনের নতুন দিগন্ত খুলবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, রেল উন্নয়নকে তাঁর সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত কাজ এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। রেলমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি বৈঠক ও কনফারেন্স এই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকে বলছেন, আগের সরকারের সময় এসব প্রকল্প কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন বাস্তবে কাজ শুরু হয়েছে। দিঘা থেকে বন্দে ভারত চালু হলে কলকাতাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।





