‘বাঘিনীর ছাতার তলা থেকে বেরিয়ে আজ ব্যাঙের ছাতার তলায়!’ বিদ্রোহীদের কটাক্ষ কুনালের

কলকাতা: লোকসভার রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় ঘিরে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। (tmc)তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করে ত্রিপুরাভিত্তিক আঞ্চলিক দল…

TMC Congress Merger Speculation

কলকাতা: লোকসভার রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় ঘিরে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। (tmc)তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করে ত্রিপুরাভিত্তিক আঞ্চলিক দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-র সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই আবহেই তৃণমূল নেতা তথা বিধায়ক কুনাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন বিদ্রোহীদের উদ্দেশে।

তিনি তাঁর পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, “শেষে ওটা কোন দল?” পাশাপাশি তিনি কটাক্ষ করে লেখেন, “বিজেপির বন্ধু হবো; কিন্তু বিজেপি তো দরজা খুলল না। মার্জ করার হলে সরাসরি বিজেপি না হয়ে এসব কী?” তাঁর আরও মন্তব্য, বিজেপি নাকি এই সাংসদদের নিজেদের দলে নিতে চাইছে না, বরং রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। বিদ্রোহীদের উদ্দেশে কুনালের সবচেয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, “বাঘিনীর ছাতার তলা থেকে বেরিয়ে আজ ব্যাঙের ছাতার তলায়।”

Advertisements

আরও দেখুনঃ https://kolkata24x7.in/politics/high-profile-delhi-meeting-draws-attention-as-sagarika-and-kirti-attend/

জানা গিয়েছে, লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে সংসদে আলাদা বসার ব্যবস্থা করার আবেদন জানান। সংখ্যার নিরিখে তাঁদের এই দাবি গ্রহণ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এরপরই বিদ্রোহী সাংসদরা ঘোষণা করেন যে তাঁরা NCPI-র সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থন করবেন।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁরা নতুন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং এনডিএ সরকারের প্রতি সমর্থন জানাবেন। এই শিবিরে শতাব্দী রায়, দীপক অধিকারী (দেব), সায়নী ঘোষ, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, মালা রায়, জুন মালিয়া এবং ইউসুফ পাঠান-সহ মোট ২০ জন সাংসদ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি বিজেপিতে যোগ না দিয়ে NCPI-তে যুক্ত হওয়ার পিছনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ আইনি কৌশল। ভারতের দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একসঙ্গে দল ছাড়লে তা বৈধ বিভাজন বা একীভূতকরণের আওতায় পড়তে পারে। লোকসভায় তৃণমূলের মোট ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনের এই পদক্ষেপ সেই সংখ্যাগত শর্ত পূরণ করছে।

এদিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে আলাদা ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার আবেদন করেছিলেন বলে খবর। ফলে সাংসদ পদ খারিজ হওয়ার সম্ভাবনা এড়াতেই বিদ্রোহীরা একটি নির্বাচন কমিশন স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করার পথ বেছে নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে NCPI-র পরিচয়। ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া মূলত ত্রিপুরার একটি বাঙালি-কেন্দ্রিক আঞ্চলিক দল। ২০২৩ সালে দলটির রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। যদিও বর্তমানে লোকসভা বা ত্রিপুরা বিধানসভায় তাদের কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, দলটির সদর দফতর হাওড়ার সাঁকরাইলে অবস্থিত।