সোমবার নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নবান্নে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্যের উন্নয়ন, প্রশাসনিক সংস্কার, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখেই ছ’টি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক থেকেই দ্রুত কাজ শুরু করার বার্তা দিয়েছে নতুন সরকার।
বৈঠকের শুরুতেই রাজ্যের মানুষকে ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের ৯৩ শতাংশ ভোটার যেভাবে গণতন্ত্রের উৎসবে অংশ নিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। জনগণের এই রায় আমাদের আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে।” পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন, ভোটকর্মী, অন্য রাজ্য থেকে আসা অবজ়ার্ভার, কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্য পুলিশ, সংবাদমাধ্যম এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সমস্ত রাজনৈতিক দলকেও ধন্যবাদ জানান তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রত্যেকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
সবচেয়ে বড় ঘোষণাগুলির মধ্যে অন্যতম সরকারি চাকরির পরীক্ষার বয়সসীমা বৃদ্ধি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৫ সালের পর থেকে বহু ক্ষেত্রে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যত বন্ধ ছিল। এর ফলে বিপুল সংখ্যক চাকরিপ্রার্থী বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ভুগছিলেন। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বয়সের ঊর্ধ্বসীমা পাঁচ বছর বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণায় স্বস্তি পেয়েছেন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী। দীর্ঘদিন ধরে চাকরির দাবিতে আন্দোলনরত যুবকদের জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সরকার কর্মসংস্থানের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেবে।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুবসমাজের আস্থা অর্জন করতে চাইছে নতুন সরকার।
এদিন সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রস্তাব অনুযায়ী বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া অনুমোদন করেছে রাজ্য সরকার। সোমবার থেকেই সেই প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, “দেশের এবং পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। সীমান্ত সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে যা যা প্রয়োজন, সরকার সেই সমস্ত পদক্ষেপ নেবে।” সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা সমস্যার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বিএসএফ-এর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে জমি হস্তান্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়াও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, সরকারি পরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এদিন সমস্ত সিদ্ধান্ত বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে সরকার সূত্রে খবর, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আরও কিছু বড় ঘোষণা হতে পারে।
নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক থেকেই শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক গতিশীলতার বার্তা দিয়েছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সরকারি চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধি, সীমান্ত নিরাপত্তায় জোর এবং প্রশাসনিক সংস্কারের মতো সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও অনেকটাই বেড়েছে। এখন দেখার, এই ঘোষণাগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে।




















