মাদকের রমরমা ঠেকাতে কঠোর রাজ্য সরকার, দুই সপ্তাহ চলবে বিশেষ অভিযান

বারুইপুরের নৃশংস ঘটনার পর অপরাধের নেপথ্যে থাকা সামাজিক সমস্যাগুলিকে চিহ্নিত করে কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার সূর্যপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন এবং ঘটনার শিকার…

india-eu-free-trade-agreement-benefits

বারুইপুরের নৃশংস ঘটনার পর অপরাধের নেপথ্যে থাকা সামাজিক সমস্যাগুলিকে চিহ্নিত করে কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার সূর্যপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন এবং ঘটনার শিকার পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করার পর তিনি জানান, এই ধরনের জঘন্য অপরাধের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে বেআইনি মদের কারবার এবং মাদকের বিস্তারকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সামাজিক দূষণ রুখতে এবার রাজ্যজুড়ে বড়সড় পুলিশি অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোনও অপরাধ হঠাৎ করে ঘটে না। এর পিছনে কিছু কারণ ও পরিস্থিতি কাজ করে। বারুইপুরের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, বেআইনি মদের ঠেক, গাঁজা, চরসসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের ব্যবহার অনেক সময় অপরাধ প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। তাই এই ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। এরপরই তিনি ডিজিপি-কে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য রাজ্যজুড়ে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী, শুধু স্থানীয় থানার পুলিশ নয়, প্রয়োজনে ব্যাটালিয়নে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ কর্মীদেরও এই অভিযানে যুক্ত করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রতিটি জেলার পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দায়িত্ব ভাগ করে দিয়ে বেআইনি মদ ও মাদক চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোথায় কোথায় অবৈধ কারবার চলছে, কারা এর সঙ্গে যুক্ত, সেই বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ অভিযানে বেআইনি মদের ভাটি, মাদক পাচারের সম্ভাব্য জায়গা এবং অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্রগুলিকে চিহ্নিত করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী তল্লাশি, গ্রেফতার এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পুলিশকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

বারুইপুরের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের বক্তব্য, শুধু অপরাধের পর তদন্ত করাই নয়, অপরাধের উৎস বা কারণগুলিকেও নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। সেই লক্ষ্যেই মাদক ও বেআইনি মদের বিরুদ্ধে এই রাজ্যব্যাপী অভিযান