
ময়মনসিংহের দীপু চন্দ্র দাস। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু যুবক। তাঁর নৃশংস হত্যাকাণ্ডে (Hindu killing Bangladesh) শিউরে উঠেছে বিশ্ব। এমনই শিউরে ওঠার মতো ঘটনা হচ্ছে তড়িঘড়ি সেই ঘটনার নিন্দায় সরব হওয়া এপার বাংলার বাম নেতৃত্ব। হিন্দু হিতে প্রকাশ্যে বামেদের এগিয়ে আসায় অনেকেই অবাক। এটাই যেন সংঘের সাফল্য। হিন্দুদের একত্রিত করার পথে এগিয়ে যাওয়া। এমনই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের বড় অংশ।
১৯২৫ সালে যাত্রা শুরু করে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ। একই সময়ে আত্মপ্রকাশ করে ভারতের মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টি। খরগোশের গতিতে এগিয়ে সংঘ এখন অনেকটাই সফল। সেই তুলনায় বামেদের দশা এখন বেহাল। শ্রমজীবীদের হয়ে লড়াই করা কমরেডরা পরিবর্তিত সমাজের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হোঁচট খাচ্ছে। অন্যদিকে সংঘ ধরে রেখেছে নিজের ছন্দ। ২০১৪ সালের পর থেকে যে সংঘের কাজে গতি পেয়েছে তা বলাই বাহুল্য। অন্যদিকে বামেরা গিয়েছে ব্যাকফুটে।
সংঘের সাফ কথা, হিন্দুদের একত্রিত করা। হিন্দুদের পক্ষে সওয়াল করা। যেটা ভারতের রাজনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী বলে পরিচিত ছিল। গেরুয়া বস্ত্র মানেই সাম্প্রদায়িক। অশিক্ষিত রুচির পরিচয় বলেও প্রচার করতেন বামেরা। দাদরির আখলাককে নিয়ে বামেদের যা দরদ ছিল তা মুর্শিদাবাদের হরগোবিন্দ ও চন্দন দাসকে নিয়ে দেখা যায়নি। অথচ তাঁরা সিপিএমের কর্মী ছিলেন।
সামশেরগঞ্জের ঘটনা প্রচারে এসেছিল বলে এতো কিছু জানা গেছে। আগে এসব গোপন থাকত। সংখ্যালঘুদের কিছু হলেই বামেরা পথে নামতেন। উল্টো ক্ষেত্রে চুপ। গোপনে কেউ কেউ হিন্দুদের সাহায্য করার বার্তা দিলেও সেসব প্রকাশ্যে আনতেন না। সোজা হিসেব, সংখ্যালঘুদের ভোট ব্যাংক আছে। এই ছবিটাই বদলাতে চেয়েছিল আরএসএস। সেই কাজে তাঁরা যেন অনেকটাই সফল।
বামেদের বড় অংশ এখন প্রকাশ্যে রামের সঙ্গে। তৃণমূলের জমানায় তোষণ বাড়লেও হিন্দুদের উৎসব বেড়েছে। প্রকাশ্যে না হলেও, গোপনে আক্রান্ত হিন্দুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ঘাসফুলের নেতারা। এখন আবার ময়মনসিংহের ঘটনা নিয়ে পথে নামছে বামেরা। এই ছবিটাই তো দেখতে চায় আরএসএস। সেটাই যেন হচ্ছে, এটা সাফল্য সংঘের।










