JU ক্যাম্পাসে কুকুর-বেড়াল নিষিদ্ধের ফতোয়া! বেনজির সিদ্ধান্তে শোরগোল

কলকাতা: উপদ্রব চরমে পৌঁছাতেই এবার নজিরবিহীন কড়া দাওয়াই। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) ক্যাম্পাসে একের পর এক পড়ুয়া ও গবেষকের কুকুরের কামড় খাওয়ার ঘটনার পর এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
Jadavpur University dog feeding ban

কলকাতা: উপদ্রব চরমে পৌঁছাতেই এবার নজিরবিহীন কড়া দাওয়াই। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) ক্যাম্পাসে একের পর এক পড়ুয়া ও গবেষকের কুকুরের কামড় খাওয়ার ঘটনার পর এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল কর্তৃপক্ষ। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু চিহ্নিত এলাকা ছাড়া ক্যাম্পাসের যেখানে-সেখানে পথকুকুর বা বিড়ালকে খাবার দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে স্টাফ কোয়ার্টারে পোষ্য বা পথকুকুর রাখা নিয়ে জারি হয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু কল্যাণ কমিটির (Animal Welfare Committee) হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়েছে। (Jadavpur University dog feeding ban)

ক্যান্টিন থেকে মেইন গেট, সর্বত্র তৈরি হচ্ছে ‘নো-ফিডিং জোন’

আট সদস্যের কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যাদবপুরের মূল ক্যাম্পাস, সল্টলেক ক্যাম্পাস এবং ন্যাশনাল ইনস্ট্রুমেন্টস লিমিটেড ক্যাম্পাসের ভিড় এলাকা, যেমন- ক্যান্টিন, ছাত্রাবাস, অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের আশপাশে কুকুর-বিড়ালকে খাওয়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট, প্রবেশ ও বাহির পথ এবং প্রধান সড়কের ধারের এলাকাগুলিকেও ‘নো-ফিডিং জোন’ করা হচ্ছে। স্পষ্ট করে ব্যানার টাঙানো হবে, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাম্পাসকে পথকুকুরমুক্ত রাখতে হবে।’

   

কোয়ার্টার যেন ‘কুকুরশালা’! অধ্যাপকের ওপর চটল নবান্ন-কর্তৃপক্ষ

পশু কল্যাণ কমিটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে এক চরম চাঞ্চল্যকর তথ্য। কিছু আবাসিক কোয়ার্টারকে নিয়মবহির্ভূতভাবে পথকুকুরদের স্থায়ী আশ্রয়স্থল বা ‘কুকুরশালা’ বানিয়ে ফেলা হয়েছিল। এমনকি এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁকে বরাদ্দ করা কোয়ার্টারে তিনি নিজে না থেকে, সেখানে শুধুমাত্র পথকুকুর রাখার কাজে ব্যবহার করছিলেন! বিশ্ববিদ্যালয় সাফ জানিয়েছে, ওই কোয়ার্টারটি দ্রুত পুনরুদ্ধার করে কোনোও আবাসনহীন শিক্ষকের হাতে তুলে দেওয়া হবে। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোয়ার্টারকে প্রাণীদের স্থায়ী আশ্রয়স্থল বানানোর অধিকার কারও নেই।

বাইরের কুকুর রুখতে বসছে লোহার জাল, হবে বন্ধ্যাকরণ

ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গেটগুলিতে বিশেষ জাল লাগানোর সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে বাইরের কোনও কুকুর ভেতরে ঢুকতে না পারে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের ভেতরের সব কুকুরকে ধরে দ্রুত টিকাকরণ ও বন্ধ্যাকরণের (Sterilization) ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দেশজুড়ে কুকুরের কামড় ও জলাতঙ্কের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সেই সুর টেনেই এবার নিজেদের শিক্ষাঙ্গন সুরক্ষিত করতে অল-আউট অ্যাকশনে নামল যাদবপুর কর্তৃপক্ষ।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google