রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই অবৈধ কয়লা খনি ও পাচারের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘জিরো কোল লিকেজ’ (Zero Coal Leakage) উদ্যোগের অংশ হিসেবে সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (CISF) পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন কয়লা খনি অঞ্চলে ব্যাপক চিরুনি তল্লাশি চালিয়েছে। গত ৪ জুলাই থেকে ৮ জুলাই—এই পাঁচ দিনের বিশেষ অভিযানে ৪২৮.৩৪ মেট্রিক টন অবৈধ কয়লা উদ্ধার হয়েছে।
অভিযানের খুঁটিনাটি
খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৫৭ (MMDR Act, 1957)-এর অধীনে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে শুধু কয়লা উদ্ধারই নয়, পাশাপাশি একটি ট্রাক, ১৩টি মোটরসাইকেল এবং অবৈধ খননের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সিআইএসএফ-এর তরফে জানানো হয়েছে, মোট ৪টি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। বিসিসিএল (BCCL), ইসিএল (ECL) এবং সিসিএল (CCL)-এর বিভিন্ন খনি এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
কয়লা চুরি রুখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সিআইএসএফ এবার প্রথাগত নজরদারির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করেছে। ড্রোন সার্ভিল্যান্স, ট্রানজিট-রুট মনিটরিং এবং আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে খনি অঞ্চলগুলোতে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সিআইএসএফ-এর দাবি, স্থানীয় পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় রক্ষা করেই এই অপারেশনটি সফল করা হয়েছে। ভবিষ্যতে জাতীয় সম্পত্তি রক্ষায় এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, তৃণমূলের শাসনকালে রাজ্যে অবৈধ কয়লা উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগে বারবার উত্তপ্ত হয়েছে রাজনীতি। কয়লা কাণ্ডে শাসকদলের শীর্ষ নেতাদের নাম জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে পাচারকাণ্ড নিয়ে প্রবল চর্চা ছিল। এখন রাজ্যে পালাবদলের ঠিক পরেই সিআইএসএফ-এর এই তৎপরতাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই অভিযান শুধু কয়লা চুরিই আটকাবে না, বরং এতদিন কারা এই অবৈধ কারবারের নেপথ্যে ছিল, সেই তথ্যও সামনে আসতে পারে।





