বিয়ের পিঁড়ি ছেড়ে হিয়ারিং-এ বর! তার পর কী ঘটল?

বীরভূম: রাজ্যজুড়ে ‘এসআইআর’ (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন ও যাচাই নিয়ে যখন নানা প্রান্তে ক্ষোভ-বিক্ষোভের ছবি ধরা পড়ছে, ঠিক তখনই বীরভূমের নানুর থেকে সামনে এল এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
Groom attends SIR hearing

বীরভূম: রাজ্যজুড়ে ‘এসআইআর’ (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন ও যাচাই নিয়ে যখন নানা প্রান্তে ক্ষোভ-বিক্ষোভের ছবি ধরা পড়ছে, ঠিক তখনই বীরভূমের নানুর থেকে সামনে এল এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। মাথায় টোপর নেই ঠিকই, কিন্তু পরনে বিয়ের জমকালো পোশাক, গলায় মালা আর সুগন্ধি মেখে সোজা হিয়ারিং সেন্টারে হাজির এক বর! বিয়ের পিঁড়িতে বসার ঠিক আগে ভোটার কার্ডের শুনানি সেরে নজির গড়লেন নানুরের যুবক কবির আকবর রানা।

বিয়ের দিনে ‘বিনা মেঘে বজ্রপাত’

জানা গিয়েছে, নানুরের খেজুরিপাড়ার বাসিন্দা কবিরের বিয়ের দিনক্ষণ স্থির হয়েছিল দুই মাস আগেই। মঙ্গলবার ছিল তাঁর জীবনের সেই বিশেষ দিন। কিন্তু বিয়ের মাত্র তিন দিন আগে হাতে আসে নির্বাচন কমিশনের নোটিশ। দেখা যায়, বিয়ের দিনই তাঁর ‘এসআইআর’ শুনানির তারিখ পড়েছে। সরকারি নির্দেশ এড়িয়ে গেলে যদি ভবিষ্যতে ভোটার তালিকায় সমস্যা হয়, সেই আশঙ্কায় এক মুহূর্ত দেরি না করার সিদ্ধান্ত নেন কবির।

   

সাজানো গাড়ি নিয়ে হিয়ারিং সেন্টারে Groom attends SIR hearing

মঙ্গলবার সকালে যখন বাড়ির লোক বিয়ের তদারকিতে ব্যস্ত, তখন বরযাত্রী নিয়ে বেরোনোর আগেই সাজানো গাড়িতে চড়ে কবির পৌঁছে যান স্থানীয় হিয়ারিং সেন্টারে। গোলাপ আর রজনীগন্ধায় সাজানো বরের গাড়ি যখন সরকারি অফিসের সামনে দাঁড়ায়, তখন উপস্থিত সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিএলও (BLO), সবার চোখ চড়কগাছ। ওই অবস্থাতেই লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের নথি জমা দেন এবং শুনানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন কবির।

দায়বদ্ধতার অনন্য নজির

শুনানি শেষে হাসিমুখেই কেন্দ্রের বাইরে আসেন যুবক। কবির জানান, “বিয়ে তো জীবনের বড় উৎসব, কিন্তু নাগরিক হিসেবে ভোটার কার্ডের কাজ সম্পন্ন করাও আমার কর্তব্য। দিনটি একই পড়ে যাওয়ায় আমি বরের সাজেই চলে এসেছি। কাজ শেষ হলো, এবার নিশ্চিন্তে বিয়ে করতে যাব।”

হিয়ারিং পর্ব মিটিয়ে সেই সাজানো গাড়িতে করেই বিয়ের আসরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। নানুরের এই ‘বর’ এখন সমাজমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। যেখানে অনেকে এসআইআর প্রক্রিয়ায় অসহযোগিতা করছেন, সেখানে কবিরের এই দায়বদ্ধতা দেখে মুগ্ধ স্থানীয় প্রশাসনও।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google