দুর্নীতি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা (state government) নিয়ে প্রশ্নের আবহে বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। রাজ্যের প্রতিটি দপ্তরের কাজকর্ম, আর্থিক লেনদেন এবং প্রশাসনিক কার্যকলাপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে শ্বেতপত্র (White Paper) প্রকাশ করা হবে বলে বিধানসভায় জানালেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। একইসঙ্গে তিনি জানান, বিভিন্ন দপ্তরের আর্থিক হিসাব ও ব্যয়ের নিরপেক্ষ মূল্যায়নের জন্য নিয়ন্ত্রক ও মহালেখা পরীক্ষক (CAG)-এর রিপোর্টও আনা হবে।
বিধানসভায় বাজেট (state government) অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হল প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে বিভিন্ন দপ্তরের কাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা। সেই উদ্দেশ্যেই প্রতিটি দপ্তরকে তাদের কার্যকলাপ, প্রকল্প বাস্তবায়ন, ব্যয় এবং অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করতে বলা হবে।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শ্বেতপত্র প্রকাশের মাধ্যমে শুধু সরকারের সাফল্যই নয়, বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কী কী চ্যালেঞ্জ ছিল, কোথায় সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং কীভাবে তা মোকাবিলা করা হয়েছে, সেই তথ্যও সামনে আনা হবে। এতে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে সরকারের আশা।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি বিভিন্ন দপ্তরে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আসছে। সেই প্রেক্ষিতে সরকার তথ্যভিত্তিক জবাব দিতে চায়। শ্বেতপত্র প্রকাশ হলে প্রতিটি দপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে আসবে এবং অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা যাচাই করাও সহজ হবে।
এছাড়াও অর্থমন্ত্রী জানান, রাজ্যের আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে সরকারি অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে নিরপেক্ষ মূল্যায়নের জন্য CAG রিপোর্টের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট রিপোর্টগুলি বিধানসভায় পেশ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এর ফলে সরকারি ব্যয়ের উপর আরও কার্যকর নজরদারি সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে এই ঘোষণাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শ্বেতপত্র প্রকাশ একটি কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। একইসঙ্গে CAG রিপোর্ট প্রকাশের সিদ্ধান্তও সরকারের আর্থিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে স্বচ্ছতা আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।



