‘নেতামন্ত্রীরা কি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন?’ মুখ্যমন্ত্রীর কথায় কোন ইঙ্গিত!

রাজ্যের প্রান্তিক, দরিদ্র ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের কাছে উন্নতমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাধারণ মানুষের…

রাজ্যের প্রান্তিক, দরিদ্র ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের কাছে উন্নতমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচের বোঝা কমানো এবং প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ যাতে সহজে স্বাস্থ্য পরিষেবা পান, সেই উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই রাজ্যে আয়ুষ্মান প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় ১.৩৬ কোটি থেকে ১.৪৩ কোটি পরিবারকে বিনামূল্যে চিকিৎসার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বহু দরিদ্র পরিবার বড় ধরনের চিকিৎসার খরচ থেকে সুরাহা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষ করে যাঁরা আর্থিক সমস্যার কারণে উন্নত চিকিৎসা করাতে সমস্যায় পড়তেন, তাঁদের জন্য এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

Advertisements

সরকারের দাবি, শুধু স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা দেওয়া নয়, সরকারি হাসপাতালগুলোর পরিকাঠামো ও পরিষেবার মান উন্নত করতেও একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জেলা হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজগুলিতে চিকিৎসা পরিষেবার গুণগত মান বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালগুলিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রোগীদের অপেক্ষার সময়, জরুরি বিভাগের পরিষেবা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যালোচনা করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এই বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সরকারের চিন্তাভাবনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হল সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সমাজের প্রান্তিক অংশ। তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা উন্নত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যাঁদের প্রকৃত প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের কাছে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের দায়িত্ব।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সরকারি হাসপাতালগুলির ওপর আরও কার্যকর নজরদারি চালানোর জন্য বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সাব-ডিভিশন হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজগুলির পরিষেবা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে। স্বাস্থ্য দফতরের উচ্চ পর্যায় থেকে এই নজরদারি পরিচালনার ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

হাসপাতালের দৈনন্দিন পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ, জরুরি বিভাগে রোগীদের অবস্থান, বহির্বিভাগের পরিষেবা, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, শুধু পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই হবে না, তার বাস্তবায়ন কতটা হচ্ছে, সেটিও নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।