১০ ঘণ্টা জেরার পর গ্রেফতার ঢাকুরিয়ার ডন! কে এই সোনা পাপ্পু?

কলকাতা: সেই ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির রাডারে ছিলেন তিনি। অবশেষে সোমবার দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডি-র (ED) জালে ধরা দিলেন কসবা-ঢাকুরিয়ার অন্যতম ত্রাস বিশ্বজিৎ পোদ্দার ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
ED Arrest Sona Pappu

কলকাতা: সেই ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির রাডারে ছিলেন তিনি। অবশেষে সোমবার দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডি-র (ED) জালে ধরা দিলেন কসবা-ঢাকুরিয়ার অন্যতম ত্রাস বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’। তোলাবাজি, বেআইনি নির্মাণ, এলাকা দখল থেকে শুরু করে গুণ্ডাগিরি, দক্ষিণ কলকাতার এই ‘ডন’-এর বিরুদ্ধে অভিযোগের ঝুলি উল্টালে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। ইডি সূত্রে খবর, সোমবার রাতে সিজিও কমপ্লেক্সে বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মেলাতেই গভীর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। (ED Arrest Sona Pappu)

বালিগঞ্জের ব্যবসায়ী থেকে যেভাবে ‘ভোট ম্যানেজার’

বালিগঞ্জ চত্বরে একটি সোনার দোকান রয়েছে বিশ্বজিতের। নিজেকে সোনার ব্যবসায়ী বা রেস্তোরাঁ মালিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া বিশ্বজিতের অপরাধ জগতে হাতেখড়ি মূলত সোনা পাপ্পু নামে। তবে তাঁর আসল প্রতিপত্তি বা রকেটের গতিতে উত্থান ঘটে তৃণমূল জমানাতেই। খাতায়-কলমে শাসকদলের কোনও বড় পদ না থাকলেও, কসবা, ঢাকুরিয়া ও রামলাল বাজার চত্বরে কান পাতলেই শোনা যেত, এই পাপ্পুই নাকি তৃণমূলের ‘ভোট ম্যানেজার’। পুরভোট হোক বা বিধানসভা, বিরোধীদের ভয় দেখিয়ে ঘর-বন্দি করে বুথ ফাঁকা করার গুরুদায়িত্ব সামলাতেন এই কুখ্যাত দুষ্কৃতীই।

   

নেতাদের ড্রয়িংরুমে অবাধ যাতায়াত! ভাইরাল একাধিক ছবি

সোনা পাপ্পুর গ্রেফতারির পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল ফেলে দিয়েছে একাধিক হেভিওয়েট নেতার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি। কখনও কসবার বিধায়ক জাভেদ খানের পাশে, আবার কখনও তৃণমূলের দক্ষিণ কলকাতার জেলা সভাপতি দেবাশিস কুমারের একাধিক কর্মসূচির অগ্রভাগে দেখা গিয়েছে এই ডনকে। এমনকি, তৃণমূল কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রীকে সোনা পাপ্পুর মেয়ের অন্নপ্রাশনের ঘরোয়া অনুষ্ঠানেও উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে।

বেআইনি নির্মাণের পাহাড় ও ইডি-র থাবা

অভিযোগ, কলকাতা পুরনিগমের ৬৭ এবং ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫০-৫৫টি বেআইনি বহুতল নির্মাণের নেপথ্যে রয়েছে এই সোনা পাপ্পুর মাস্টারমাইন্ড। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের ইঞ্জিনিয়াররা সব জেনেও তৎকালীন শাসক নেতাদের রাজনৈতিক প্রতিপত্তির ভয়ে হাত দেওয়ার সাহস পেতেন না। জয় কামদার এবং শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জমি দখল আর অবৈধ নির্মাণের বড় সিন্ডিকেট চালাতেন পাপ্পু। মূলত সাধারণ মানুষকে হুমকি দিয়ে জমি খালি করানোই ছিল তাঁর কাজ, আর বিনিময়ে মিলত মোটা অঙ্কের কাটমানি ও প্রোমোটিংয়ের শেয়ার। অবশেষে এই বিপুল বেআইনি আর্থিক লেনদেনের উৎস খুঁজতে গিয়েই সোনা পাপ্পুকে গারদে পুরল কেন্দ্রীয় এজেন্সি।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google