
নববর্ষের আবহে বাংলার রাজনৈতিক মঞ্চে আবারও জোরালোভাবে উঠে এসেছে ‘বাঙালিত্ব’ প্রসঙ্গ। এই প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বাঙালি পরিচয় নিয়ে রাজনীতির এই নতুন প্রবণতাকে তিনি তীব্রভাবে সমালোচনা করছেন।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র বক্তব্য এবং রাজনৈতিক অবস্থানের প্রভাবেই নাকি অনেকেই এখন নিজেদের বাঙালি প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন এমনটাই দাবি করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর মতে, “আমাদের বাঙালিত্ব প্রমাণ করার কোনও প্রয়োজন নেই। আমরা জন্মসূত্রেই বাঙালি, আমাদের জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, সংস্কৃতি সবকিছুতেই তা প্রতিফলিত হয়।” তিনি আরও বলেন, নতুন কিছু নেতার মধ্যে এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা তিনি অপ্রয়োজনীয় বলেই মনে করেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন ইউসুফ পাঠান-র নাম। তাঁর দাবি, যারা বাইরের প্রার্থীকে এনে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত করতে চান, তাদেরই বরং নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করা উচিত। এতে করে তিনি বোঝাতে চান, বাঙালিত্ব কোনও রাজনৈতিক হাতিয়ার হতে পারে না, এটি মানুষের সংস্কৃতি ও পরিচয়ের গভীরে প্রোথিত। দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে উঠে আসে বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাদ্যাভ্যাসের কথাও। “আমরা মাছ-ভাত খাই, এটাই আমাদের পরিচয়। আমরা বাঙালিকে মাছে-ভাতেই রাখব,” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি আবেগ প্রকাশ করেছেন, তেমনই অন্যদিকে বর্তমান সরকারের সমালোচনাও করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বাংলার কৃষক ও মৎস্যজীবীরা আজ সংকটে রয়েছেন।
ধান চাষিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান নীতির কারণে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না এবং উৎপাদনেও নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। একইভাবে, মাছ চাষিরাও সমস্যায় পড়েছেন বলে তাঁর দাবি। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে পর্যাপ্ত মাছ উৎপাদন না হওয়ায় বাইরে থেকে, বিশেষ করে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে মাছ আমদানি করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরেন। এই পুরো বিষয়টিকে কেন্দ্র করে রাজ্যে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। একদিকে শাসকদল নিজেদের অবস্থানকে সঠিক প্রমাণ করতে চাইছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এই সুযোগে সরকারের নীতিকে আক্রমণ করছে। তবে এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বাঙালিত্ব কি সত্যিই প্রমাণ করার বিষয়, নাকি এটি স্বতঃসিদ্ধ একটি পরিচয়?

