ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির বিশেষ অনুরোধে বাংলায় এসেছিলেন বিজেপি সাংসদ সম্বিৎ পাত্র। (Jagannath Temple)মুখ্যমন্ত্রী একটি বিশেষ চিঠিতে লিখেছেন দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের ধাম শব্দে আহত হয়েছেন ওড়িশার মানুষ। তাই তিনি চান বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ওই ধাম শব্দ বন্ধটি প্রত্যাহার করুন। শুভেন্দু অধিকারী রীতিমত সাংবাদিক বৈঠক ডেকে এই ধাম শব্দটি প্রত্যাহার করার কথা বলেন।
পুরীর নবনির্বাচিত বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ দূত হয়ে আজ নবান্নে আসেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে ওড়িশা সরকারের সেই অফিসিয়াল চিঠিটি তুলে দেন। চিঠিতে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সনাতন ধর্মে ‘চার ধাম’-এর অন্যতম হলো পুরীর শ্রীজগন্নাথ ক্ষেত্র।
আরও দেখুনঃ হাতে আর ২০ মিনিট! আজ হাজিরা না দিলেই অভিষেকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ
দিঘার মন্দিরটিকে পূর্ববর্তী সরকার যেভাবে ‘জগন্নাথ ধাম’ হিসেবে প্রচার ও চিহ্নিত করেছিল, তাতে ওড়িশার কোটি কোটি জগন্নাথ ভক্তের ধর্মীয় অনুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তাই ‘ধাম’ শব্দটি বাদ দিয়ে এটিকে শুধুমাত্র ‘জগন্নাথ মন্দির’ রাখার অনুরোধ করা হয়।ওড়িশা সরকারের এই আবেগকে সম্মান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্যাবিনেটের সাথে আলোচনার পর আজই সাংবাদিক বৈঠকে ঘোষণা করেন, দিঘার ওই স্থানকে ‘ধাম’ বলা শাস্ত্রসম্মত নয়। তাই অবিলম্বে ‘ধাম’ তকমা তুলে নেওয়া হলো এবং এটি এখন থেকে সাধারণ নিয়ম মেনে শুধুই ‘দিঘা জগন্নাথ মন্দির’ হিসেবে পরিচিত হবে।
প্রথম থেকেই এই মন্দির নিয়ে ছিল নানা রকম বিতর্ক। তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপি বারবার এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছিল যে হিন্দু ধর্মে চার ধাম ব্যাতিত অন্য কোনও ধাম হয় না। তাই দিঘার এই মন্দিরের নাম কোনোভাবেই ধাম নয়। তবে এই বিতর্কে কর্নপাত করেন নি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি ওই ধাম শব্দটি ব্যবহার করেন। সেই সময় ওড়িশার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গিয়েছিল তবে সরকারের প্রভাবের কারণে কোনো অ্যাকশন নেওয়া যায়নি। রাজ্যে পালা বদলের পরেই এই পরিবর্তন নিয়ে ফের সরব হয়েছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী এবং এই পরিবর্তনকে স্বীকার করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।




















