ঢাকার রাস্তায় শুভেন্দু-মোদীর কুশপুতুল বানিয়ে জুতোপেটা ইসলামপন্থীদের

dhaka-protest-against-modi-suvendu

ঢাকা: বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের প্রভাব এবার সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতেও আলোড়ন তুলেছে। (Dhaka protest)ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কুশপুতুল দাহ এবং বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ও ছবিতে দেখা গিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা কুশপুতুলে জুতোর মালা পরিয়ে তা জুতোপেটা করছে এবং পরে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। এই ঘটনাকে ঘিরে দুই বাংলার রাজনৈতিক মহলেও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

   

বিক্ষোভকারীদের একাংশের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং বিজেপির ক্ষমতায় আসা তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না। বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর সীমান্ত, অনুপ্রবেশ এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

আরও দেখুনঃ ডার্বির উন্মাদনায় ফুটছে শহর, সমর্থকদের জন্য বাড়ছে পরিবহন পরিষেবা

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনে এবং কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়। সেখানে ভারতবিরোধী স্লোগানও শোনা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সংগঠনগুলির আনুষ্ঠানিক পরিচয় বা প্রতিনিধিত্ব নিয়ে এখনও স্পষ্ট সরকারি তথ্য সামনে আসেনি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তন বাংলাদেশের কিছু গোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং রোহিঙ্গা ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিজেপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার এই বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের নতুন প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই সীমান্ত নজরদারি বাড়ানো এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণের বিষয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশের কিছু উগ্র গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। তবে এই ধরনের বিক্ষোভের ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে সরাসরি প্রভাব পড়বে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এই বিতর্ককে আরও জটিল করেছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থার আবহে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণকেও অনেকেই নতুন আঞ্চলিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখছেন।

ভারতের রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিজেপির একাংশ দাবি করেছে, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কিছু গোষ্ঠী অস্বস্তিতে পড়েছে বলেই এই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, সীমান্ত ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে উত্তেজনা না বাড়িয়ে কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি সামলানো উচিত।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুস্তরীয় এবং শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিক্ষোভের ভিত্তিতে সেই সম্পর্ককে বিচার করা ঠিক হবে না। বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা, জলবণ্টন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক সব মিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বিচ্ছিন্ন বিক্ষোভ বা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার বাইরে গিয়ে বৃহত্তর কূটনৈতিক স্বার্থকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেই মনে করছেন তাঁরা।

এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলির সত্যতা ও প্রেক্ষাপট নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কিছু ভিডিও পুরনো কি না, বা অন্য ঘটনার সঙ্গে মিশিয়ে ছড়ানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও যাচাই চলছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে।