বহরমপুর শহর তৃণমূল যুব সভাপতি (TMC) পাপাই ঘোষের বাগানবাড়িতে শনিবার সকালে প্রশাসনের বুলডোজার অভিযান ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে। বহরমপুর পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে, সৈয়দাবাদের সুড়সুড়ি মাঠ লাগোয়া এলাকায় অবস্থিত ওই বাগানবাড়িটি দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার (TMC) ভোর থেকেই এলাকায় প্রশাসনের একাধিক গাড়ি প্রবেশ করে। এরপর শুরু হয় ভাঙার কাজ। বুলডোজার চালিয়ে ধীরে ধীরে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ওই বাগানবাড়ির একাংশ। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড় জমতে থাকে। কেউ বিস্ময় প্রকাশ করেন, আবার কেউ কেউ নীরব দর্শকের মতো পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ঘিরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
জানা গিয়েছে, ওই বাগানবাড়িটি শুধু একটি ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবেই নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। অভিযোগ, ওই বাগানবাড়িতে বসেই পাপাই ঘোষ এলাকার মানুষের নানা সমস্যা শুনতেন এবং সমাধানের চেষ্টা করতেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বহু মানুষ তাঁদের সমস্যার কথা জানাতে সেখানে যেতেন এবং অনেক সময় সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো।
তবে একই সঙ্গে (TMC) উঠেছে একাধিক অভিযোগও। স্থানীয় কিছু বাসিন্দার দাবি, ওই বাগানবাড়িকে ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, কাউকে হুমকি দিতে বা চাপ সৃষ্টি করতেও নাকি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ওই বাগানবাড়িতে ডেকে পাঠানো হতো। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রশাসনিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবুও দীর্ঘদিন ধরেই ওই স্থানকে কেন্দ্র করে নানা বিতর্ক জমা হচ্ছিল বলে জানা গেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নির্মাণ সংক্রান্ত কিছু অনিয়ম থাকতে পারে, যার ভিত্তিতেই এই ভাঙার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। তবে তদন্ত এখনো চলছে এবং বিস্তারিত রিপোর্ট আসার পরই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে জানানো হয়েছে।



